কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের ২ নং রাউতি ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড এর সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য মিনা আক্তার এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিগত ১০ এপ্রিল একই ইউনিয়নের বাঁশাটি গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা মোঃ রতন মিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য মিনা আক্তার সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প যেমন কাবিখা,কবিটা সহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক ও নিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়।

তাছাড়া তার নিজ আসনের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা, গর্ভবতী ভাতা, পঙ্গু ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ সরকারি যতরকম ভাতা প্রদান করা হয় ওইসব কার্ড করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এলাকার লোকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার, ১০ হাজার তার চেয়েও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা যায়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহকালে দেখা যায়,বাঁশাটির হবির দোকান হইতে কাবিখা প্রকল্পের একটি মাটিকাটা রাস্তা মেরামতের কথা থাকলেও তিনি কিছু অংশে মাটি কেটে কাজের সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

ফলে এলাকার কৃষকদের বোরো মৌসুমের ধান বাড়িতে আনা যাচ্ছে না। এ নিয়ে ওই এলাকার সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য মিনা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রাস্তায় যতটুকু মাটি কাটার কথা ছিল তার চেয়ে একটু কম কাটা হয়েছে। আমি এলাকাবাসীর কাছে কথা দিয়েছি সবটুকু রাস্তা আমি মাটি ভরাট করে দিব। তাছাড়া এলাকার নারী পুরুষ সহ অন্তত ৩০ জন জানান মিনা আক্তার তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কার্ডের কথা বলে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। কেউ কেউ এক বছর আগে টাকা দিলেও এখন পর্যন্ত বয়স্ক ভাতা,গর্ভকালীন ভাতা এসবের কিছুই পাননি।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে মিনা আক্তার কারো কাছ থেকে অনৈতিকভাবে কোন টাকা নেননি বলে জানান। তিনি বলেন, এলাকার কিছু লোক আমাকে হিংসা করে। আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে আমাকে হেয় করতে চায়। এলাকাবাসী জানান, প্রশাসন সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে মিনা আক্তার এসব দুর্নীতি করতে সাহস পাচ্ছে। তারা বলেন, অচিরেই ইউপি সদস্য মিনা আক্তারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে একটি মানববন্ধন করা হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}