২রা মে শুক্রবার নগরীর একটি মসজিদে বাদজুমা নামাজের জানাজা শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে জার্মানিতে প্রথম নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দারকে দাফন করা হয়। এসময় জার্মানিসহ ইউরোপের নানা দেশ থেকে আসা কবির বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কবিকে শেষবারের মত বিদায় জানাতে বার্লিনে ছুটে আসেন। ১৯৭৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারীতে তৎকালীন দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতায় কালো সুর্যের কালো জোৎস্নায় কালো বন্যায়” লেখা একটি কবিতা লেখার কারণে জার্মানিতে প্রথম নির্বাসিত লেখক ও চিন্তক ও সাহিত্যিক, কবি দাউদ হায়দারের জানাজা শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন হলো জার্মানির রাজধানী বার্লিনে। শুক্রবার বাদজুমা বার্লিনের টেম্পেলহফ শোইনেবার্গ এলাকার একটি মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয় সেন্ট মিশায়েল কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এসময় বাংলাদেশ থেকে আনা মাটি তাঁর কবরের উপর ছিটিয়ে দেয়া হয়।
এসময় তাঁকে শেষ বারের মত দেখতে ছুটে আসেন কবির পাঠক, ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী বন্ধু ও স্বজনেরা। জানান শেষ বারের মত শ্রদ্ধা। এসময় শেষ সময়ে প্রয়াত কবির পাশে থাকায় সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কবির ভাগ্নি ও কবির স্নেহধন্য মাইন চৌধুরী পিটুসহ তাঁর বন্ধুরা। প্রয়াত কবি দাউদ হায়দার গেল ২৬ এপ্রিল শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে বার্লিনের একটি রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিকে ৫১ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর বার্লিনের রাইনিকেডর্ফে তাঁর ফ্ল্যাটে পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত পান। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বার্লিনসহ কয়েকটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রয়াত কবি দাউদ হায়দার প্রথমে ভারতের কলকাতায় ১৩ বছর নির্বাসিত থাকার সময়ে জার্মান নোবেলবিজয়ী লেখক গুন্টার গ্রাসের সাথে পরিচয়ের সুত্র ধরে জার্মানিতে বসবাসের সুযোগ পান। এরপর থেকেই তিনি আর বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি। দেশের কোন সরকারও কবিকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে জানান তার স্বজনরা। তবুও তার কবিতা ও সাহিত্যের মাধ্যমে সবার অন্তরে অমর হয়ে থাকবেন প্রত্যাশা তাঁর পাঠক ভক্ত, সুহৃদ ও স্বজনদের। কবি দাউদ হায়দার ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রয়ারী ভাষা আন্দোলনের মহান দিনে পাবনা সদরের দোহারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।।