হাতজোড় করে বলছি, আমার অবুঝ সন্তানকে ফিরিয়ে দিন, কতদিন ধরে তাকে দেখিনা, একবার হলেও দেখার সুযোগ করে দিন। সন্তানের অপেক্ষায় কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে মা আক্তারা খাতুনের চোখের পানি। প্রলাপ করছেন কেউ কি শুনবেনা আমার কান্না? আক্তারা খাতুন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী রামপ্রসাদ গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের মেয়ে। আদালতে মামলা হলেও মিলছে না অবুঝ মেয়ে সুমাইয়া আক্তার সাদিয়ার সন্ধান। মামলা সুত্রে জানা যায়, আক্তারা খাতুনের সাথে বিয়ে হয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ গ্রামের মৃত কাশেদ আলীর পুত্র রহমত আলীর। সংসার জীবনে তাদের ঘরে সুমাইয়া আক্তার সাদিয়া (৭) এর জন্ম হয়।

ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সন্তানকে ভর্তি করান সাদুল্লাপুর উপজেলার দারুল উলুম নলডাঙ্গা মহিলা মাদ্রাসায়। এখানে আবাসিকে রেখে লেখা-পড়া করাতেন। এমতাবস্থায়, ঘর সংসার করাকালে যৌতুক দাবীতে স্বামী রহমত আলীসহ পক্ষীয় লোকজনের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন আক্তারা খাতুন। এক পর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে আশ্রয় নেন পিতার বাড়িতে। জীবনের নির্মম পরিহাস- পিতার বাড়িতে অবস্থানের সুযোগে প্রতিপক্ষ রহমত আলী পক্ষীয় লোকজনসহ গত ১৫-১২-২০২৪ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টায় ওই মাদ্রাসা থেকে শিশু সুমাইয়া আক্তার সাদিয়াকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর থেকে কোন সন্ধান না পেয়ে নিরুপায় মা আক্তারা খাতুন সন্তান উদ্ধারের দাবীতে রহমত আলীসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা (নং ৩৩/২০২৫) দায়ের করেন।

অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন, সাদুল্লাপুরের প্রতাপ গ্রামের রিনা বেগম(৩২) ও রফিকুল ইসলাম (৩৬), সুন্দরগঞ্জের তালুক সর্বানন্দ গ্রামের রুস্তম মিয়া (২৬) ও মোস্তাক মিয়া (৪৫)। বাদী আক্তারা খাতুন জানান, মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সুমাইয়া আক্তার সাদিয়াকে উদ্ধারের আদেশ জারি করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি। সুমাইয়া আক্তার সাদিয়াকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে নিতে মাদ্রাসার হুজুর রেজাউল করিমের সাথে প্রতিপক্ষগণের যোগসাজস রয়েছে। আমাকে না জানিয়ে আমার সন্তানকে তিনি প্রতিপক্ষগণের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। রহমত আলী একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় সে দেশ ছাড়া হয়েছে। ঠিকানা বিহীন হয়েছে তার পরিবার। এ সব কথা বলতে বলতে সন্তানের স্মৃতি চারণ করে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন অসহায় মা আক্তারা খাতুন।

এক পর্যায়ে অঝর ধারায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দাও, জানি না আমার মেয়ে কোথায় কি অবস্থায় আছে? তাকে পাচার নাকি হত্যা করে গুম করা হয়েছে? একটি বার হলেও মেয়েকে দেখার সুযোগ করে দিন। কেউ কি শুনবেনা আমার কান্না? আক্তারা খাতুনের এমন করুন আহাজারী রামপ্রসাদ গ্রামে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। আসলে মায়ের কাছে সন্তানের প্রতি যে ভালবাসা যার মুল্য কেউ দিতে পারে না, সন্তানহারা মায়ের অবস্থা কেমন হয় তা একটু অনুধাবন করলেই দেখবেন আপনার চোখেও জল আসতে বাধ্য। বিস্তারিত জানতে কথা হয় দারুল উলুম নলডাঙ্গা মহিলা মাদ্রাসার হুজুর রেজাউল করিমের সাথে। তিনি সুমাইয়া আক্তার সাদিয়ার ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আক্তারা খাতুন তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার সাদিয়াকে এখানে ভর্তি করে ছিলেন।

দেখা শুনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন সুমাইয়া আক্তার সাদিয়ার ফুফু রিনা বেগমকে। রিনা বেগম অসুস্থতার কথা বলে ভাজতি সুমাইয়া আক্তার সাদিয়াকে এখান থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাকে মাদ্রাসায় ফেরৎ দেননি। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, সন্তানহারা বাবা-মা জানে সন্তান হারানোর বেদনা। একদিকে বাবা-মাকে দখতে সন্তানের আহাজারী অপর দিকে সন্তানকে দেখতে বাবা-মা এর আহাজারী এ যেন আবেগঘন এক বিষাদময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যপট। তাই সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ আর সন্তানদের আহাজারি সবার মনকে নাড়া দিলে সন্তান ফিরে পাবে মাকে, মা ফিরে পাবে সন্তানকে। প্রয়োজন শুধু প্রশাসনের একটু সুনজর…….।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}