ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা প্রেস ক্লাবের বর্তমান কার্যকরি কমিটি নিয়ে সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সোলেমান খান মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করছেন। এ সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রোববার (৪ মে) বিকেলে প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন বর্তমান কমিটি। এসময় বক্তব্য রাখেন কসবা প্রেস ক্লাব কার্যকরি কমিটির সভাপতি মো. আবুল খায়ের স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান হোসেন পলা, সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান মো. ইনয়ামুল ইসলাম প্রমুখ।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মো. সোলেমান খান উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যকরি কমিটির সদস্য। গত জুলাই-আগষ্টের ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেন। তৎকারণে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে থাকেন।
এসময় ক্লাবের সহ-সভাপতি ও কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নেপাল চন্দ্র সাহাও আত্মগোপনে থাকেন। এতে করে কসবা প্রেস ক্লাবের কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্নতা ঘটে। পরে সোলেমান খান ও নেপাল চন্দ্র সাহা আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এলে তাদেরকে কার্যকরি কমিটির সভা আহবান করে সংবিধান অনুযায়ী ক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠনের অনুরোধ করলেও কোনোই কর্ণপাত করেননি। পরে গত ১৩ ডিসেম্বর ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ক্লাবের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদের উপস্থিতিতে বর্তমান কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়। ওই দিন থেকেই এই কমিটি কসবা প্রেস ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গত কয়েকদিন ধরে সাবেক সভাপতি মো. সোলেমান খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কসবা প্রেস ক্লাবকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের চিঠি চালাচালি করেন এবং গত শনিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজেই কসবা প্রেস ক্লাবের আহবায়ক হয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করেন।
যাহা সম্পূর্ণরুপে ক্লাবের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। সাবেক সভাপতি সোলেমান খান যেহেতু কসবা প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি নন, তাই তিনি আহবায়ক কমিটি গঠন করতে পারেন না। তার এ সকল কর্মকাণ্ডকে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ও সকল শ্রেণী-পেশার লোকজনকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানাই। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান কমিটি দাবী করেন, তারাই বৈধ কমিটি। সোলেমান খানের ঘোষিত আহবায়ক কমিটি অবৈধ ও অগণত্রান্ত্রিক। তাদেরকে এসকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। এসময় প্রেস ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।