২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে এক নির্মম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। এই হামলার দায় স্বীকার করে The Resistance Front (TRF), যা পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে, হামলাটি পাকিস্তানের মদদপুষ্ট; যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। এই ফ্রন্ট খুব ই অখ্যাত একটা সংগঠন এবং এদের দায় স্বীকার এর খবর বিবিসি রয়টার্স আল জাজিরা সহ কোন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেই আসেনি। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হলেও ভারত সরকার কোন তদন্তের ধারে কাছে না যেয়ে তারা সরাসরি যুদ্ধের পথে হাটতে থাকে।

তাদের মিডিয়া গোটা দেশ কে যুদ্ধোন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। মোদি সরকার এর কার্যক্রম দেখে মনে হয় তারা যেন এমন একটা হামলার অপেক্ষাতেই ছিলেন যাতে একটা যুদ্ধ কে জনগনের কাছে জাস্টিফাই করা যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত, এই হামলার পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। ৬ মে ভারত “অপারেশন সিন্দুর” নামে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল জঙ্গি ঘাঁটি। পাকিস্তান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় “অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস” চালায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়। এই সংঘাতে উভয় পক্ষের বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। তারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও, কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

জাতিসংঘের এই নিষ্ক্রিয়তা আবারও প্রমাণ করে, বর্তমান বিশ্বে এই সংস্থা কেবল প্রতিক্রিয়াশীল বিবৃতি প্রদানে সীমাবদ্ধ একটি প্রতীকী সংস্থা হয়ে পড়েছে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পরমাণু শক্তিধর দেশ, কিন্তু তাদের জনগণের একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এই যুদ্ধের ফলে দুই দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। সরকারগুলো যুদ্ধের খরচ জোগাতে কর বৃদ্ধি করতে বাধ্য হবে , যার বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। মধ্যবিত্ত স্বল্প মধ্য বিত্ত এবং নিম্ন আয়ের লোক দের নাভিস্বাস উঠবে বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যর্থতা, বিশেষ করে অর্থনীতি ও বেকারত্ব সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরাতে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিফ মুনির অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলা করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশের নেতৃত্বের দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরি। এই সংঘাত আবারও দেখিয়ে দিল, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা যখন জাতীয়তাবাদের মোড়কে ঢাকা পড়ে, তখন যুদ্ধ একটি অযাচিত বাস্তবতা হয়ে ওঠে। সংলাপ, কূটনীতি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বই হতে পারে এই সমস্যার সমাধান। শান্তিই হতে পারে একমাত্র পথ—শুধু অস্ত্রের ভাষায় নয়, মানবতার ভাষাতেও যদি আমরা কথা বলতে শিখি। লেখক একজন চিকিতসক কলামিস্ট এবং বিস্লেষক

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}