ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় চলমান এক কিলোমিটার সড়কে চলমানরত অবস্থায় একটি অংশে চেইনেজ ৭৭৯ মিটার অংশে ওভার লোডিং করা বালুবাহী ড্রাম ট্রাক কারনে সদ্য বিটুমিনাস কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রাস্তা মেরমত চলমান অবস্থায় সকল যাত্রীরা ভ্যান- রিক্মা ও অটোতে করে চলা ফেরা করছেন। স্থানীয় অনেকেই বলছেন, কাজ চলমানরত অবস্থায় ভারী ওভারলোড গাড়ি চলাচল করলে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সদ্য করা কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাটির কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে ফেলা যাবে এটি অস্বাভাবিক কিছু না।
স্থানীয় সচেতন মহলের বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, বিটুমিন ও কেরসিনের মিশ্রণ যেটিকে প্রাইমকোর্ট বলে এই প্রাইম কোর্ট ঠিকাদার করলেও অশিক্ষিত কুচক্রী মহল জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এখানে নাকি ট্যাককোর্ট ছাড়া কার্পেটিং করছে উল্লেখ্য প্রাইম কোর্ট করার পর পুনরায় ট্যাককোর্ট প্রয়োজন নেই এবং এটি স্পেসিফিকেশন মোতাবেক সঠিকও নয়। ৬৩ লাখ টাকার প্রকল্পেও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের পাইচার মোড় থেকে মৃধা ডাঙ্গী (গোপালপুর লঞ্চঘাট মোড় থেকে মাথাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত) ২ কিলোমিটার সড়ক ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হচ্ছে।
এ নিয়ে পত্রপত্রিকা ব্যাপক লেখালেখি হয়, এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা এলজিইডি জেলা নির্বাহী পৌরকৌশলী অধিদপ্তর উদ্যোগের সরজমিনে মেজারমেন্ট করা হয় এই মেজারমেন্টে ১১ ই টি পয়েন্টের গড় এভারেজ ২৭ সেন্টিমিটার প্লাস দেখা যায়। সিডিউল অনুযায়ী থাকার কথা ২৫ সেন্টিমিটার। কাজের মানও ভালো। এর মধ্যে এক কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং এবং বাকি অংশে সিলকোর্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি। পথচারীদের স্থানীয়দের দাবী অত্র উপজেলার মধ্য এলজিইডি এমন গুনগত কাজ অন্যতম সেরা। পিচ ঢালাইয়ের নিচে প্রয়োজনীয় স্তর দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেটি জেলা এলজিইডি কর্তৃক পরিক্ষিত এবং মেজারমেন্টকৃত।
একজন নাম প্রকাশ না করার শতে’ জানান এখানে বিভিন্ন নামে বেনামে যা কিছু ঘটেছে এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। কার্পেটিং চলমান অবস্থায় জনগণের প্রধান যাতায়াত-পথে ধৈর্য ধারণ করে যাতায়েত অসম্ভব কিছু না। স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান “এটি তিনটি গ্রামের মানুষের মূল যাতায়াত পথ। আমাদের কাছে এই রাস্তার গুরুত্ব অনেক, আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছি যেন রাস্তার কাজ ভাল হয়, রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।” ঠিকাদার নিজাম উদ্দিন জানান, কাজটি তার ছেলে নাসিম আহমেদ মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কিনে সম্পন্ন করছেন। তিনি বলেন, “ পুরো কাজে মাত্র একটি জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে সমস্যা হয়েছিল, তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী সঠিক ভাবে কাজ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কুচক্রী মহল বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে, কিন্তু সত্য বলে তো একটা জিনিস আছে। রাস্তা জনসাধারণের চোখের সামনেই আছে দেখুন যাচাই করুন আর অফিস তো আমাকে ত্রুটিপূর্ণ কাজের জন্য কোন বিল দিবেন না, সেজন্য কোন ত্রুটি বিচ্যুত থাকলে কাজ চলমান অবস্থায়ই আমি ঠিক করে দিব। উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাবির হোসেন প্রতিবেদক কে জানান, “এক কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে, বাকি অংশে সিলকোর্ট চলছে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি চলাচল করায় এমনটা হতে পারে।
তবে এখনো বিল পরিশোধ হয়নি, কোনো ত্রুটি থাকলে ঠিকাদার দিয়ে তা ঠিক করানো হবে।” উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস ছাত্তার এ প্রতিবেদকে বলেন, “কার্পেটিংয়ের পরপরই পিচ তুলতে গেলে কিছুটা উঠতেই পারে, এটা স্বাভাবিক। কয়েকদিন পরে আর উঠবে না। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে উপসহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।” উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন প্রতিবেদকে বলেন, “এমন অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”