ঝড়ের সাথে ছিল প্রবল বাতাস। এই বাতাসের তোড়ে গাছ পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর কাশিয়াবাড়ী স্কুল এন্ড কলেজ ভবন। ভবনের চাল দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় অস্তিত্ব বিহীন হয়ে পড়েছে পাঁচ’টি শ্রেণি কক্ষ। শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। দ্রুত ভবন সংস্কারের দাবী কলেজ কর্তৃপক্ষের।
জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় কলেজের পুরাতন টিনশেড ভবনের উপর একটি ইউক্লিপটাস গাছ ভেঙে পড়ে। এতে ভবনের চাল দুমড়েমুচড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে পাঁচটি শ্রেণি কক্ষ। এতে পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় ভবনের সামনের আঙ্গিনায় সারি সারি বেঞ্চে বসে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে। কাটছেনা আতঙ্ক বৃষ্টি এলে নেই মাথা গোঁজার ঠাই।
কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিখা আক্তার জানান,ঝড়ে গাছপরে কলেজের রুমগুলো ভেঙে যাওয়ায় আমাদের লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতেও ভয় হয় কখন
যেন বৃষ্টি আসে।
একাদশ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী নবিউল ইসলাম জানান, এভাবে কত দিন ক্লাস চলবে। আমাদের দাবী দ্রুত ভবন নির্মাণ করা হোক।
প্রভাষক নুর আলম প্রামানিক (পদার্থ বিজ্ঞান)জানান, খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়ার পরিবেশ থাকে না। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগও নষ্ট হয়ে যায়। তাই কলেজের রুমগুলো দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুব হাসান বলেন, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কাশিয়াবাড়ী স্কুল এন্ড কলেজ। গত ১৭ মে রাতে প্রবল ঝড়ে কলেজের ৫ টি টিনশেড ভবন বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ৭০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম বেঘাত ঘটছে। তিনি বলেন, সামনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা।
আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে অল্প সময়ের মধ্যে বিধ্বস্ত ভবনটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়। অন্যথায় পরীক্ষা চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।