কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি পুকুর পাড়ে পেপে ও কলা বাগানের দেড়শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল ২২ মে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের মারগারবনে এ ঘটনাটি ঘটে।

আজ ২৩ মে শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দূবৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উত্তর সালুয়া গ্রামের মো. আপরচাঁন এর পুত্র মো. আসাদ মিয়ার পুকুর পাড়ে রোপিত প্রায় ৫০টি কলাগাছ ও শতাধিক পেপের চারা কেটে, ছিড়ে ও উপরিয়ে ফেলে দেয় দূর্বৃত্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক মো. আসাদ মিয়ার ছেলে প্রবাস ফেরত মো. আল মমিন (৩৭) বলেন, তিনি প্রবাস থেকে এসে কষ্টার্জিত টাকায় তাদের পুকুর পাড়ে শখের একটি বাগান গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন।

তার ছোটভাই মো. মঞ্জু মিয়া সহ তিনি নিজে বাগানটির দেখাশোনা করতেন।গত কাল ২২ মে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মঞ্জু মিয়া পুকুর পাড়ের বাগানে গিয়ে দেখেন একটি গরু বাগানের কলাগাছ ও পেপে গাছ নষ্ট করে ফেলছে। মঞ্জু মিয়া গরুটি বাগান থেকে সরিয়ে অন্যত্র ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে গরুর মালিক সালুয়া ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের নাম না জানা এক যুবকের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই যুবক বলেন পুকুর পাড়ে কিভাবে কলা ও পেপে বাগান করে তা তিনি দেখে নিবেন।

এর পর দিন আজ শুক্রবার সকালে পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখেন তাদের রোপিত কলা ও পেপে বাগান কাটা। তাদের ধারণা ওই অজ্ঞাতনামা যুবক লোক নিয়ে এ ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছেন।
ওই অজ্ঞাত নামা যুবকের নাম ও পিতার নাম সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে এমন দাবী করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক মো. আসাদ মিয়ার ছেলে প্রবাস ফেরত মো. আল মমিন। তিনি আরো বলেন, ওই অজ্ঞাত নামা যুবকের নাম ও পিতার নাম সংগ্রহ করতে পারলেই কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করবেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, এখানে সুন্দর একটি ফলের বাগান গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন প্রবাসী মো.আল মমিন। কলাগাছে কলা ধরছিলো। পেপে চারাগাছগুলো মেতে উঠছিল। হঠাৎ করে শুক্রবার সকাল বেলা তারা দেখতে পান পেপে গাছের গোড়া ও মাঝামাঝি হতে গাছগুলো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ও ছিড়ে ফেলা হয়েছে। কলা গাছ কেটে ও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটা অত্যন্ত ঘৃনীত একটা কাজ হয়েছে। তবে কে বা কারা কেটেছে এবং কেনই বা কেটেছে সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

আবার অনেকেই বলেন, মানুষ কীভাবে এমন কাজ করতে পারে? বিবেক কতটুকু নিচে গেলে গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা করতে পারে? এটি মারাত্মক একটি অন্যায় কাজ।
যারা এ কাজ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}