দূর থেকে প্রথম দেখায় মনে হবে সামনে একটি বিশাল ডোবা৷ ডোবাটির একপাশে কতগুলো ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান, অপর তিনপাশে তিনটি বিদ্যাপীঠের অনেকগুলো বহুতল দালান। প্রাথমিক চিন্তা ভাবনায় ডোবা মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে জায়গাটি একটি উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ।

সামান্য বৃষ্টি হলে খেলার মাঠটি পানিতে তলিয়ে যায়। প্রতিবছর বর্ষার শুরু থেকে শেষ পুরো মৌসুম জলাবদ্ধতার কবলে পরে মাঠ। এক বর্ষার বিদায়ের পর আরেক বর্ষা আসে তাও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনা এই মাঠের। বঙ্গোপসাগরে চলমান নিন্মচাপে আকাশে সূর্যের দেখা নেই বিগত কিছুদিন। দিন-রাত অবিরত বৃষ্টির পানি জমে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও মাঠের হয়েছে বেহাল দশা। ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বর্ণনা করছিলাম কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার দূর্গা রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ষা মৌসুমে বেহাল দশায় জলমগ্ন থাকা খেলার মাঠের কথা।

মাঠের চারিদিক সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, আশেপাশে বাজার ও লোকালয় থাকায় অধিকাংশ বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ পায় না। অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি জমে মাঠটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের বাসিন্দাদের জন্য এটি একমাত্র উন্মুক্ত ক্রীড়া ক্ষেত্র। তবে সারা বর্ষা জুড়েই মাঠটি জলাবদ্ধ থাকায় খেলাধুলা তো দূরের কথা, মাঠ দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতেও সমস্যা হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “প্রতিবছর একই অবস্থা। স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি মাঠে খেলাধুলা করাটা খুব জরুরি, কিন্তু এই মাঠ বর্ষায় একেবারে অকেজো হয়ে পড়ে।”

মাঠের পাশে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত সিনেমাহল ও বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস রয়েছে। এগুলোতে সারাবছর বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে। বৃষ্টির পানিতে সকল ময়লা-আবর্জনা পঁচে মাঠের পানির সাথে মিলিত হয়। দীর্ঘসময় জমে থাকা দূষিত পানি ডেঙ্গু সৃষ্টিকারী এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী মাঠের পানিতে দৌড়াদৌড়ি করায় তাদের পায়ে পানি বাহিত বিভিন্ন চর্মরোগের আশংকা রয়েছে।

মুরাদনগর দূর্গা রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “আজ থেকে ৪বছর আগে মাঠের পূর্বপাশে মাটি ফালানো হয়েছিল। বাকি অংশে অল্প পানি জমে। বাকিটা আমি অবগত নই। বিষয়টির বিস্তারিত জেনে তারপর জানাতে পারবো।”

মুরাদনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী তুফরিজ এটন বলেন, ” শিশু কিশোরদের বিকাশে খেলাধূলার বিকল্প কিছু হতে পারে না। এটি সমাধানের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা করবো।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}