রাজু নামের এক সাদামাটা সহজ-সরল মানুষ, পকেটে সামান্য কিছু টাকা। পরিবার, সন্তানের জন্য তার অগাধ ভালোবাসা। ঢাকা শহরে ছোট খাটো কাজ করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন। সামনে ঈদ। গরীব হলেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ছুটেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। পথে তাও আবার সাইকেল চেপে! গন্তব্য গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট গ্রাম।

নিরব, নিস্তব্ধে একাকিত্বভাবে বাড়ি ফেরা। রাত গভীর। বগুড়া শহর তখন ঘুমের আগল খুলে নিশ্চুপ। সে সময় টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দলের নজরে আসে রাজু। প্রশ্ন করেন “এই গভীর রাতে সাইকেলে করে কোথায় যাচ্ছেন?” রাজুর জবাব “ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় যাচ্ছি, ঈদ করতে।”

একজন সেনা কর্মকর্তা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “সাইকেলে করে কেন যাচ্ছেন এত দূর?”

রাজুর গলার স্বর কাঁপে উঠে। চোখে জল টলোমলো। বলেন, “স্যার, গাইবান্ধার টিকিট ২০০০ টাকা। যদি এই টাকায় টিকিট কাটি, তাহলে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঈদ করব কিভাবে? তাই সাইকেলই আমার ভরসা।” ছেলে সাইকেল কিনে চেয়েছে টাকা নেই তাই সাইকেল চালিয়ে রওনা দিয়েছি।

রাজুর এমন কথায় এক মুহূর্তেই স্তব্ধ চারপাশ। কথায় যেন আকাশ ভেদ করে উঠে আসে এক নিঃশব্দ আর্তনাদ। ঘটে মানবতার চূড়ান্ত প্রকাশ। এরপর সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাজুর পাশে দাঁড়ান, তাঁর জন্য কিছু ঈদ উপহার কিনে দেন। কেউ তাঁর কাঁধে হাত রাখেন কেউ বা জড়িয়ে ধরেন এই পরিশ্রান্ত সাহসী মানুষটিকে।

তারপর একটি ট্রাক থামিয়ে রাজুকে উঠিয়ে দেয় তারা।
রাজু আপ্লুত হয়ে ট্রাকে ছুটে চললেও জলে ছলোছলো চোখে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিকে। তাদের সাথে কখনো হয়তবা দেখা হবে না, এরপরও তাদের সহানুভূতি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে হতভাগা রাজুর স্মৃতিপটে। ঘটনাস্থল বগুড়া চারমাথা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}