হিজবুল বাহার (Hizbul Bahr) ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য যাত্রীবাহী জাহাজ, যা ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (BSC) কর্তৃক ফ্রান্স থেকে ক্রয় করা হয়। এর পূর্ব নাম ছিল “GENERAL MANGIN”, যা ১৯৫৩ সালে ফ্রান্সের সেন্ট-নাজারে নির্মিত হয়েছিল ।

জাহাজের বিবরণ ও ইতিহাস

নির্মাণ ও নাম পরিবর্তন: জাহাজটি প্রথমে “GENERAL MANGIN” নামে পরিচিত ছিল। পরে এটি বিভিন্ন সময়ে মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে “PRESIDENT”, “EASTERN QUEEN” নাম ধারণ করে। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এটি কিনে “হিজবুল বাহার” নামে নামকরণ করে ।

যাত্রী পরিবহন: এই জাহাজটি প্রায় ৯৩০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম ছিল এবং এটি ঢাকা ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে যাত্রী পরিবহন করত ।

হজযাত্রী পরিবহন: হিজবুল বাহার মূলত হজ মৌসুমে হজযাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হতো। চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা পর্যন্ত সমুদ্রপথে যাত্রী পরিবহন করত ।

প্রমোদভ্রমণ ও সেমিনার: ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়, যেখানে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী, বিজ্ঞানী ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এই সেমিনারে সমুদ্রসম্পদ আহরণ নিয়ে আলোচনা হয় ।

নৌবাহিনীতে স্থানান্তর: ১৯৮১ সালে জাহাজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং এর নামকরণ করা হয় “শহীদ সালাহউদ্দিন”। পরে এটি ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রামে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয় ।

অতিরিক্ত তথ্য

হিজবুল বাহার বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ, যা যাত্রী পরিবহন, হজযাত্রী পরিবহন এবং গবেষণা সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে ভূমিকা রেখেছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}