“আমার আবার কষ্ট কি? আমি তো বাঁধ ভাঙা অবাধ্য নদী। সমুদ্রের বুকে মিশে গিয়ে, নোনতা জলে লিখি নিজের সমাধি।” বাঁধ ভাঙা অবাধ্য নদী সর্বস্ব ভেঙে নিয়ে গেলেও তার কিছু আসে যায় না। সত্যই নদী ভাঙন যেন এক দুঃস্বপ্ন। হাজার স্বপ্ন বুনে মানুষ যখন নতুন বাসা বাঁধে, নদী তখন সেই স্বপ্নগুলো উড়িয়ে নিয়ে যায়। ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় ভিটেমাটি। বিলীন হয়ে যায় তাদের ভালো থাকা। কিংবা বেঁচে থাকার ইচ্ছে গুলো। নিজের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে যখন অসহায়ের মত নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে তখন হয়তো কিছুই বুঝতে পারেনা।

এ যেন নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই দৃশ্যের পেছনে লুকিয়ে আছে বহু বছরের সংগ্রাম, বেদনা ও বাস্তুচ্যুতির করুণ কাহিনী। বলছিলাম, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদীর কথা। এই নদী তীরে বসে নদীর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে অঝরে চোখের জল ফেলছিলেন ষাটোর্ধ্ব এক নারী। গায়ে তার রংচটা ময়লা শাড়ি। শরীরে বার্ধক্যের ছাপ। বয়সের কারণে একেবারে নুয়ে পড়েছেন। কানেও কম শোনেন। বার্ধক্য যেন গ্রাস করে ফেলেছে। চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। দেখে মনে হয়েছিল যেন কতদিন তার চোখে ঘুম আসেনি।

রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্রের দিকে অপলক দৃষ্টিতে শুধুই তাকিয়ে আছেন। সবকিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব। নদীর বুকে ছিল ওই নারীর বাপ-দাদার ভিটে-মাটি, ছিল স্বামীর বসতভিটা, ফসলি জমি। রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সব শেষ। নদী শোনে না তার কান্না। তবুও দু’চোখে স্বপ্ন বুনে কবে ভেসে উঠবে চর, ফিরে পাবে স্বামীর হারানো বসতভিটা। তাঁর এই স্বপ্ন পুরনে কবির ভাষায় বলি “বেদনার রং যদি নীল হয়! গোধূলির আকাশ তবে কেন এতো লাল? আঁধারের রাত কেটে গিয়ে স্বপ্নের পায়ে পায়ে আসুক সোনালি সকাল।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}