ভোলা প্রেসক্লাব মিলতায়নে পরিবর্তন যুব উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে পরিবর্তন যুব উন্নয়ন সংস্থার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৪র্থ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী মিলন মেলা এবং আনন্দ র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

‎মোঃ হারুন অর রশিদ শিমুলের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শওকত হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বেওয়ারিশ সেবা ফউন্ডেশন, মোঃ রাজিবুল ইসলাম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ম্যান ফর ম্যান ফোর্স, মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভোলা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, হারুনুর রশিদ অধ্যক্ষ ফাতেমা খাতুন কলেজ, বাধঁন তালুকদার সাধারণ সম্পাদক ভোলা থিয়েটার , আব্দুল্লাহ আল মামুন আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিঃ, মোঃ রফিকুল ইসলাম সভাপতি ভেদুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থা, নিপা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফাউন্ডার ড্রীম টাচ বাংলাদেশ এবং পরিবর্তন যুব উন্নয়ন সংস্থার সকল সদস্য বৃন্দ।

‎উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবর্তন যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নেওয়াজ শরীফ।
‎কোরআন তেলাওয়াত মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের বক্তব্য রাখেন মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রভাষক,আলতাজুর রহমান কলেজ ও উপদেষ্টা পরিবর্তন যুব উন্নয়ন সংস্থা। উদ্বোধনী বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান করেন।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ শওকত হোসেন বলেন, আমরা মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বাস করি। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের কিছু দায়দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে দায়িত্বের জায়গা থেকে অনেকেই বিভিন্ন রকমের সামাজিক উন্নয়নমূলক এবং সচেতনতামূলক কাজ করে থাকেন। কিন্তু কেউ কোনো ভালো কাজ করলে আমরা তার স্বীকৃতি দিতে চাই না। আমাদের মধ্যে প্রবণতা হচ্ছে নিজেরা কোনো কাজ করব না, অন্যজন একটি ভালো কাজ করলে সে কাজের সমালোচনা করা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ভালো কাজটি যাতে না হয় সেজন্যে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে বিরোধিতা করা হয়। এতে করে যিনি বা যারা কাজটি করছেন তারা অনেক সময় ভালো কাজটি করার উত্সাহ হারিয়ে ফেলেন অথবা কাজটি করতে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়তে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনিতেই আমাদের সব জায়গায় এখন দুর্নীতি এবং হটকারিতায় ভরে গেছে। সমাজের বেশিরভাগ মানুষ এখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ মানবিক হিসাবে কাজ করছেন। তাঁদের কাজের স্বীকৃতি যেমন দেওয়া দরকার, তেমনি ভালো কাজের প্রশংসা করাও জরুরি। এতে করে যিনি বা যাঁরা কাজটি করছেন তাঁরা যেমন উত্সাহিত হবেন তেমনি অন্যেরাও ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত হবেন। উপকৃত হবে দেশ ও সমাজ।

‎বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে মোঃ রাজিবুল ইসলাম বলেন, যখন কোনো একটা ভাল কাজ করা হয়। সে কাজের জন্য এক বা একাধিক মানুষ উপকৃতও হয়। অনেকেই এই ধরনের কাজকে সাধুবাদ দিয়ে থাকেন। পারলে কোনো না কোনো ভাবে সেই ভাল কাজে তারা নিজেকেও সম্পৃক্ত করেন। যা অত্যন্ত উপকারী একটি দিক। তবে ক্ষতিটা শুরু হয় এমন একশ্রেণির মানুষদের দ্বারা যারা সর্বদা সাদা কাপড়ের কালো দাগ গুণতে অত্যন্ত দক্ষ। ধরুন আপনি দশ-কুড়িজন অভুক্ত লোককে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ালেন। আপনি তাদের ভোজন করিয়ে শান্তি পেলেন আর যারা আপনার খাবার থেকে ভোজন করলো তারাও শান্তি পেল। তবে কোনো না কোনো কারণে অশান্তিতে থাকবে ঐ একশ্রেণির মানুষেরা। আপনি নিজের অর্থ আর শ্রম খরচ করে এত লোককে খাওয়ালেন সেটা তাদের চোখে পড়বে না তাদের চোখে পড়বে খাওয়ানোতে আপনার কি ত্রুটি ছিল কিংবা নিজের অজান্তে কোনো ধরনের ভুল হয়ে থাকলে সেটা নিয়েই তৈরি হবে তাদের আলোচনা কিংবা সমালোচনা। একদল এটা নিয়ে তৈরি করবে আপনার বিরুদ্ধে অপবাদ। অন্য এক দল তা পৌঁছে দিবে আপনার সমাজের আনাচে কানাচে। আর এই মিথ্যা অপবাদ অবিশ্বাস করা পাবলিকের তুলনা বিশ্বাস করা পাবলিকের সংখ্যা যদি বেশি হয় তবে সেই সমাজে আর কেউ কোনো দিন নিজ ইচ্ছায় পরের ভালো করার জন্য এগিয়ে আসে না।

ফলে সেই সমাজে সবার মাঝে তৈরি হয় এক ধরনের স্বার্থপর মনোভাব। যা কোনো দিনই সমাজ জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হতে দেয় না। তাই সকলের উচিত ভালো কাজের ক্ষেত্রে এই ধরনের মনোভাব পরিহার করা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}