পাহাড়ি ঢলে ওআগাম বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়েছে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল, ডিগ্রিরচর এবং চরভদ্রাসন উপজেলার অন্তত ৩/৪টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর জমি পানির নিচে চলে গেছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়েছে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল, ডিগ্রিরচর এবং চরভদ্রাসন উপজেলার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর জমি পানির নিচে চলে গেছে। ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাদাম খেত। স্থানীয়রা জানান, চরের বালিমিশ্রিত জমিতে ব্যাপকভাবে বাদাম চাষ হয়। হঠাৎ পানি বাড়ায় কয়েকশ একর বাদাম খেত ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে এবার ব্যাপক বাদামের আবাদ হয়েছিল।

তবে কয়েক দিন ধরে পদ্মার পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিচু এলাকার বাদাম খেতগুলো তলিয়ে গেছে। নদী তীরবর্তী চরঝাউকান্দা ও হরিরামপুর ইউনিয়নের চরকল্যাণপুর, দিয়ারা গোপালপুর, আরজখারডাঙ্গী, চরশালেপুর এবং গাজীরটেক ইউনিয়নের মাঝিডাঙ্গী, বঙ্গেশ্বরডাঙ্গী, জয়দেব সরকারডাঙ্গী গ্রামের প্রায় শতাধিক একর জমির বাদাম ও তিল খেত সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এছাড়া পদ্মার পানি বাড়ায় চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের আ. গফুর মৃধাডাঙ্গী, কামারডাঙ্গী ও মাথাভাঙা গ্রামের প্রায় একশ একর বাদাম খেতও ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। এসব এলাকার অনেক কৃষকই বাদাম পরিপক্ব হওয়ার আগেই গাছ তুলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকে, অতিরিক্ত খরচের কথা ভেবে, তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে বাদাম গাছ তোলার চেষ্টাও করেননি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে আকস্মিক পানি ঢুকে পড়ায় তারা খেত থেকে বাদাম তোলার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। কেউ কেউ আবার অপরিণত বাদাম গাছ তুলে গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ৩৮ দাগ এলাকার কৃষক মহের উদ্দিন জানান, পদ্মার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাদাম, তিল ও সবজির খেত তলিয়ে গেছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের দিয়ারা গোপালপুর এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে আমার সম্পূর্ণ পুঁজি খাটিয়ে প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলাম। ফসলগুলো প্রায় পরিপক্ব হয়ে এসেছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দেয়ায় আমার সব বাদাম খেত ডুবে গেছে।

এখন হাঁটু পানির নিচ থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছু নষ্ট বাদাম ফসল তোলার চেষ্টা করছি, কিন্তু বাজারে এসব বাদামের তেমন মূল্য পাওয়া যাবে না।’ ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে এবার বাদামের ভালো আবাদ হয়েছে। এ বছর ৬৩০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষাবাদ হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি।’ অন্যদিকে চরভদ্রাসন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘পদ্মার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমিগুলোর জরিপ ও পরিদর্শনকাজ বর্তমানে চলমান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}