ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র কুটি বাজার। এই বাজারটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহ্যবাহী অংশ হলো এর নৌকা ঘাট। দীর্ঘদিন ধরেই এটি স্থানীয়দের যাতায়াত, বাণিজ্য এবং বর্ষাকালের জলযান ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা কসবা তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদীঘেঁষা সংস্কৃতির পরিচায়ক। এই ঘাট দিয়ে আগে যেমন স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল নদীপথে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন, তেমনি আশেপাশের গ্রামের মানুষরাও বাজারে যাতায়াত করতেন নৌকায় করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই ঘাট হয়ে উঠত মানুষের ব্যস্ততম মিলনমেলা। তবে দুঃখজনকভাবে, এখন এই ঘাটের সৌন্দর্য আর ব্যবহারের উপযোগিতা দুইই কমে এসেছে। বর্তমানে ঘাটজুড়ে জমে আছে ময়লা, কাদা ও কচুরিপানা। যত্রতত্র পড়ে থাকা পলিথিন, খাবারের উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিক বোতল আর অচিহ্নিত আবর্জনায় ঘাটটির পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

নদীর পাড়ে জমে থাকা কচুরিপানা শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, বরং নৌকা চলাচলের পথে বাধাও সৃষ্টি করছে।এখন তো অনেকেই পাড়েই নামতে চায় না।” স্থানীয় জনগণ বলছেন, ঘাটটির রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি হতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, ঐতিহ্য আছে, মানুষের আগ্রহও আছে। শুধু দরকার নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার করে ঘাট এলাকা পরিষ্কার করলে এবং কচুরিপানা পরিষ্কার করে পানির প্রবাহ বজায় রাখলে, পুরো ঘাটটির সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা অনেক গুণে বেড়ে যাবে।

বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য এই জায়গাটিকে সংরক্ষণ করা জরুরি। ঘাটের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনলে যেমন স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি হবে, তেমনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও সংস্কৃতির শিক্ষাও হবে হাতেকলমে। এছাড়া প্রশাসনের সহায়তায় যদি নিয়মিত ঘাট পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি টিম গঠন করা যায়, তবে কুটি বাজারের নৌকা ঘাট হয়ে উঠতে পারে একটি আদর্শ ঘাট ও মডেল হাট এলাকা। এলাকার প্রবীণরা বলেন, “আগে এই ঘাট ছিল মানুষের গর্ব, এখন সেটার রূপ শুধু স্মৃতিতে।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}