সদা হাস্যজ্জোল পরোপকারী বিনিময় না নিয়েই ৩ হাজারের বেশি কবর খোদক কিশোরগঞ্জের আলোচিত মনু মিয়া (৬৮) আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে শনিবার (২৮জুন) সকাল ১০টার দিকে মারা গেছেন বলে তার নিজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাহাউদ্দিন ঠাকুর জানিয়েছেন জানা গেছে মনু মিয়া ৫০/৫৫ বছর যাবৎ আশপাশের এলাকা বা দুর দুরান্ত যে কোন স্থানে মানুষ মারা যাওয়ার সংবাদ পেলেই ছুটে যেতেন। তিনি এর জন্য কোন বিনিময় নিতেন না। তিনি ঘোড়ায় চড়ে কবর খুড়তে যেতেন। এই প্রীয় গোড়াটি তার একমাত্র সাথী ছিল।
বিগত সময়ে অসুস্থ হয়ে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত কয়েকদিন পূর্বে বাড়ি ফিরেছেন। সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতায় তার একমাত্র সঙ্গী অবলা জীব ঘোড়াটিকে কতিপয় দুর্বৃত্ত হত্যা করে। মানুস মরার খবর পেলেই মনু মিয়া ছুটে চলা ঘোড়া দেখলেই লোকজন বুঝে যেত আজ মনু মিয়া কারও অনন্ত যাত্রায় বাড়ী বানাতে চলেছেন। তিনি কবর খোড়ার সব ধরনের যন্ত্রপাতি নিয়ে মৃতের যেতেন বাড়িতে কবর খোড়ার পাশাপাশি তিনি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৯৭১ সালের মার্চে তার মা সারবানুর মারা গেলে তার কবর খোড়ার মধ্যে দিয়ে এ কাজে একনিষ্ট ভাবে জড়িয়ে পড়েন। আনুমানিক ৫০/৫৫ বছর ধরে তিনি বিনা পরিশ্রমে গাঁটের টাকা খরচ করে মানুষের কবর খুঁড়তেন।
দুর-দুরান্তে হেটে যাওয়া সময় সাপেক্ষ হওয়ায় নিজের জমি বিক্রি করে দ্রুত যাতায়তের জন্য একটি ঘোড়া কিনেছিলেন৷ অনেক দুর হলে তিনি গাড়িতে যাতাযাত করতেন। অভাবের সংসার হলেও সুখ ছিল মনু মিয়ার সংসারে। তিনি কিশোরগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কবর খুঁড়েছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ অনেক বরেণ্য ব্যাক্তির কবর তিনি খুড়েছেন। তার কবর খোড়ার মাঝে শিল্পের ছোয়া ছিল। মনু মিয়ার মৃত্যুম খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মনু মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ইটনাসহ কিশোরগঞ্জে সব মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে