দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না’র কার্যালয়ের ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিচতলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার এবং উপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না এই ২ জন ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তা সহ ২টি দপ্তরে মোট ৪৯ জন সেবাদানকারী কর্মকর্তা -কর্মচারী ঝুকিপূর্ণ ভাবে করে চলেছেন দৈনিক অফিসিয়াল কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ ২টি দপ্তরে সেবা নিতে উপজেলার বিভিন্ন এলকা থেকে আসা দৈনিক গড় হিসাবে ১৮০০-২০০০ জন সাধারণ সেবা গ্রহীতারাও যে কোন মুহূর্তে জরাজীর্ণ এ ভবনটি ধ্বসের কবলে পড়তে পারেন বলে এ তথ্য নিশ্বিত করেছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাজির মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন।ভবনে বেশি চাপ পড়ে বুধবার গণশুনানির ধার্য্যকৃত দিনে। ‎ ‎আশির দশকের এ ভবনের সামনের দিকে চাকচিক্যময়ের সাথে পেছনের দিকের নেই কোন বাস্তবিক মিল। অসংখ্য ফাটল আর দেয়ালের প্লাস্টারের ধ্বংস,তার সাথে ছাঁদের প্রতিটি ভংগুর কার্নিশ দেখলেই মনে হচ্ছে যে কোন মূহুর্তে ধ্বংসে পড়তে পারে এ ভবনটির যে কোন এক অংশ।

ইন্জিনিয়ারিং কোয়ালিটির ভাষায় ‘L’ আকৃতির এ ভবনের মাঝ বরাবর অর্থাৎ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না’র ব্যবহারিত রুমের পেছনের দৃশ্যমান রয়েছে প্লাস্টার বাদেই ২/১ মিঃ সম্প্রতি সময়ে করা শুধুই ইটের গাঁথনী। ভবনটিকে বেশি জরাজীর্ণ করে ফেলেছে আগাছার আস্তারন তার সাথে কর্তৃপক্ষের অযত্ন-অবহেলা। ‎ ‎তথ্য মোতাবেক,তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে অনুমান ১৯৮৬ ইং সালের সরকারি বরাদ্দকৃত নির্মানাধীন এ ভবন হতে উপজেলা এলজিইডি ভবনে কার্যালয় স্থানান্তরের নির্দেশ থাকলেও নতুন ভবনে নির্ধারিত বরাদ্দকৃত জায়গা স্বল্পতার কারন দেখিয়ে স্বাভাবিক ভাবে ঝুকিপূর্ণ ভবনে নির্বাহী কার্যক্রম করে যাচ্ছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না। ‎তিনি নিজেও ভবনটি যে ঝুকিপূর্ণ ও কার্যালয় স্থানান্তরের কথা এ প্রতিবেদকের সাথে স্বাক্ষাতকালে সেটাও আলোচনায় তুলে ধরেছেন।জানাযায়,বর্তমান ভবনের ছোট বড় ৬টি রুমে নির্বাহী কার্যক্রম চললেও জায়গা সংকট দেখায়। সেখানে নতুন ভবনে ৪টা রুমের বরাদ্ধের কথা শোনা গেছে। ‎

দৃশমান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভবনটির নিচতলার পেচনের অংশের কার্নিশে চিড় ধরেছে,ভেন্টলেটর,জানালা কিছুই ভালো নেই।আর ভবনের গা ঘেষে ১টি ড্রেন সেটা আবার ময়লা আবর্জনায় ভর্তি হয়ে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে।২য় তলায় ১/২ মিঃ ইটের আলাদা গাঁথনী,একটি পাইপের বরাবর ১ফিট গোলাকৃতির ভাংগন,ছাদের উপরের অংশের কার্নিশ হেলে পড়েছে,লতাপাতায় চারদিকে ভরে গেছে,দেওয়ালের রংয়ের সাথে প্লাস্টার উঠে এসেছে। ১৯৮৩ সালে মণিরামপুর উপজেলায় রুপান্তর করা হয়। উপজেলার কার্যক্রম এর জন্য পরপরই ১৯৮৬ সালে নির্মিত এ ভবনটির বয়স ৩ যুগেরও বেশি। ‎স্থানীয় প্রবীণ সরকারি চাকুরীজীবি ও সুধীজনেরা বলছেন,তখনকার সময়ে কোন কারচুপির সুযোগ ছিলোনা।আগে কেউ করতো না সরকারি কাজে কারচুপি, এখন যেমন করে। তাদের ধারনা সঠিক পরিমানে ভালো মানের রড,সিমেন্ট ও  দক্ষতাসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের লোকবলের কাজের মান ভালো থাকায় এমন ভবন শতশত বছরের পরও শক্তভাবে অক্ষত থাকে। ‎

মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ হলে মুঠোফোনে জানান,ভবনটি খেয়াল করে দেখা হয়নি।ঝুকিপূর্ণ কিনা সেটা বলতে গেলে ভবনকেন্দ্রীক কয়েক প্রকার পরিক্ষা-নীরিক্ষা করা লাগবে। ‎স্থানীয় কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বললে,বয়স হিসাবে ভবনটি ঝুকিপূর্ণ তবে এখনো মজবুত দেখা যায়।পেছনের অংশের কিছু ফাটল ও ভাংগা অংশের সাথে দেয়ালে ময়লার আস্তারনে পরগাছায় একেবারে মারাত্বক ঝুকিপূর্ণ দেখা যায়।সামনের মতো পেছনেও যদি কর্তৃপক্ষ দেখভালে রাখে তাহলে দৃশ্যমানে পরিবর্তন আসবে বলে জানান। তবে ভবনটি ঝুকিপূর্ণ আছে। ‎ ‎সার্বিক এ বিষয়ের আলোচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না জানান, কার্যালয় স্থানান্তরের কথা আছে তবে জায়গা সংকট ও আরো কয়েকটি কারনে এখনো সম্ভব হয়নি।তবে দূর্ঘটনা যে কোন মূহুর্তে হতে পারে,দূর্ঘটনার কোন গ্যারান্টি নাই। ‎

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}