সিলেটের গোয়াইনঘাটের বগাইয়া হাওর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের হেনস্থার প্রেক্ষিতে প্রতিবাদ সভা করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার ( ১ জুলাই) বেলা আড়াইটায় বগাইয়া হাওর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে শিক্ষার্থীরা এবং এলাকাবাসীর আয়োজনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় শিক্ষার্থীরা বলেন,ডালিম নামে এক ব্যক্তি গত রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ক্লাস রুম ঘুরে ঘুরে ভিডিও ধারণ করে।শিক্ষকরা এসয় একটি ক্লাস নেওয়ার পর পরের দিন থেকে মাদ্রাসার পরিক্ষা হওয়ার কারনে অফিসে কাজে ব্যস্ত ছিলেন শিক্ষকরা।এসময় ডালিম নামে এক ব্যক্তি ভিডিও ধারনের পর অফিসে গিয়ে আমাদের মাথার তাজ পিতা-মাতা সমতুল্য শিক্ষকদের হেনেস্তা করে।আমরা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করি।

এলাকাবাসী বলেন, ডালিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক,শিক্ষক হয়ে তিনি আরো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের হেনস্থা করা ঘৃণিত কাজ বলে আমরা মনে করি। এলাকায় বাসি আরো বলেন,ডালিম নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এছাড়া ঐদিন তিনি নিজে নিজে ভিডিও করে ভিডিও এর আগে পরে কেটে তার পছন্দ সই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন। যা আমরা নিন্দনীয় কাজ বলে মনে করি। শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা সহমত পোষণ করি এবং তার উপযুক্ত বিচার চাই।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শামসুল হুদা বলেন,হঠাৎ করে উনি এসে ভিডিও করে আমাদের সাথে অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে। আমি উনাকে বলি আপনি ভিডিও করা বন্ধ করেন কি হয়েছে আমাকে বলেন।এতে তিনি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের গায়ে হাত দিয়ে ফুলুরে ফেলে দেন।এক পর্যায়ে তিনি মাদ্রাসার অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ করেন। তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের পর মাদ্রাসায় বর্তমানে কোন কমিটি নেই,বর্তমানে গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।আমি উনাকে বিষয়টি মোবাইলে জানিয়েছে এবং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। প্রতিবাদ সভার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী যৌথভাবে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে।

তাদের এই প্রতিবাদ সভার সাথে আমরা একত্বতা পোষণ করি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডালিম বলেন, বহুদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসী অবগত রয়েছেন। পাশাপাশি মাদ্রাসায় ঠিকমতো লেখাপড়া হয় না, শিক্ষার্থীরা এলোমেলো ঘুরাফেরা করে। এ নিয়ে আমরা যুব সমাজ বহুবার প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেছি।ঘটনার দিনও উনার সাথে কথা বলে আমি ও ইমরান নামে একজন মাদ্রাসায় গেছি। উনি যাওয়ার কথা বলায় আমরা গেছি। যাওয়ার পর উনি কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে আমাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন। আমরা বলি সময় না হলে আমরা চলে যাই। গ্রামের যুবসমাজ বিষয়টি বুঝবেন বাচ্চাদের লেখাপড়ার বিষয়। তখন মাদ্রাসার ক্লার্ক বলেন তার জবাবদিহিতা কি তোমাদেরকে দিতে হবে। এরপর বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। গ্রামের তৃতীয় পক্ষ একজন আমাকে সালিশের আওতায় আসার কথা বলেন।

আমি উনাকে বলেছি আপনারা যা ভাল মনে করেন আমার কোন আপত্তি নাই,আজকে আবার শুনছি আমার বিরুদ্ধে নাকি প্রতিবাদ সভা হয়েছে। তৃতীয় পক্ষকে ফোন দিচ্ছি উনি এখন ফোন রিসিভ করছেন না।এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে ফোন দিলে মুঠোফোন ব্যস্ত থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}