ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন ফতেহপুর গ্রামে কবরস্থানে যাওয়া সরকারের রাস্তা  দখল করে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠছে কয়েকজন প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অবশ্য তাদের দাবী উক্ত জায়গা তাদের নিজস্ব পৈত্রিক সম্পত্তি। গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচলসহ একমাত্র কবরস্থানে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামজুড়ে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।গতকাল সম্পন্ন রবিবার আজকে সোমবার (০৭/০৭) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে এলাকাবাসীর  পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেন এলাকার সমাজসেবক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।তিনি অভিযোগ করেন,তার পৈত্রিক ভোগদখলীয় সম্পত্তির পাশ দিয়ে যে সরকারি রাস্তা রয়েছে, সেটি দিয়ে গ্রামের মানুষ কবরস্থান ও ঈদগাহে যাতায়াত করে। গত ১ জুলাই  এলাকার প্রভাবশালী বসু মিয়া পিতা মোঃ তহু মিয়া, এমরান হোসেন পিতা মোঃ বসু মিয়া, সোহেল মিয়া পিতা মোঃ মোকলস মিয়া,  সুমন মিয়া পিতা মিজানুর রহমান, রফিকুল মিয়া পিতা ইয়াদ আলী,ও লিটন পিতা মিজানুর রহমান ব্যক্তিগন বাঁশের বেড়া দিয়ে সেই পথটি বন্ধ করে দেয়।

ফলে ঈদগাহ ও কবরস্থানে যাওয়া ছাড়াও ফতেহপুর গ্রামের মূল যাতায়াতপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিশুসহ বৃদ্ধ, রোগী ও সাধারণ মানুষদের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত  বসু মিয়া গংরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এই জায়গা তাদের নিজস্ব  সম্পত্তি দাবী করে  বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গায় বেড়া দিয়েছি। অভিযোগকারী যেখানে বলছেন, সেটি তার জায়গা নয়। কারও চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ বারেক মিয়া জানান, প্রায় ১০/১২ বছর পূর্বে মরহুম মহন মেম্বার গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটি নির্মাণ করেছিল। তারপর থেকে গ্রামবাসী এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছে। এই রাস্তা দিয়ে কবরস্থানে লাশ নেয়া হয়।

দ্রুত বেড়া সরিয়ে রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।  এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সফর আলী বলেন, এই রাস্তা আমার বাবার সময় থেকেই ছিল। আমি নিজেও এটি সংস্কার করেছি। অথচ কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি আজ এটি বন্ধ করে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অমানবিক। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী অভিযুক্ত প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন,সরকারি কমিশনার( ভূমি)কে নির্দেশনা দেওয়া সরোজিনী তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের  জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে  ওসি কেউ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, ইউএনও মহোদয়ের ফরওয়ার্ডিং দরখাস্ত পেয়েছি।আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় সেইদিক বিবেচনায় রেখে ঘটনাস্থলে আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি,যেহেতু বিষয়টি ভূমি সংক্রান্ত সে ক্ষেত্রে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ইউএনও মহোদয়ের সমন্বয়ে বিষয়টি  খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}