বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমেরই অনলাইনে ফেইক ইন্টারএকশন দেখা যায়। বিশেষত কর্পোরেট মাফিয়াতন্ত্রের এক নয়া রুপ এই ফেইক ইন্টারএকশন। খেয়াল করে দেখবেন কর্পোরেট দাসত্বের অনুকূলে থাকা গণমাধ্যমগুলোতে একটা পোস্ট দেওয়ার পর সেগুলোতে কয়েক লক্ষ এমনকি কয়েককোটি ভিউ, লাইক, কমেন্ট। এগুলো মূলত অধিকাংশই বিভিন্ন ফেইক আইডির ইন্টারএকশন এ ভরপুর। যেমন আগে পত্রিকাগুলো সরকারকে দেখাতো তাদের পত্রিকা ৫ লক্ষ কপি ছাপা হয়, কিন্তু বাস্তবে ৫ /১০ হাজার কপি, সেটারই ডিজিটাল ভার্সন হচ্ছে লাখ লাখ সাবস্ক্রাইবার, ভিউ, লাইক,  কমেন্ট। যদিও কাগজচুরির জন্য লক্ষ কপি ছাপা পত্রিকার জালিয়াতি এখনও চলমান, তবে এখন বাজারদর বেশী ডিজিটাল এ বাটপারির। অনলাইনে চাইলেই লক্ষ কিংবা কোটি লাইক, কমেন্ট আর ভিউ-শেয়ার কেনা যায়। এগুলোর মিশেলেই নতুন জালিয়াতিতে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হচ্ছে গণমানুষ।

এর মূল কারন আমাদের জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশের ডিজিটাল লিটারেসী সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকা। দেখা গেছে অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই সঠিকভাবে এর প্রয়োগ সম্পর্কে জানেননা। পাশাপাশি বিভিন্ন জালিয়াত চক্র সবসময়ই বিভ্রান্তি তৈরী করে ফায়দা লুটে নিচ্ছে।  এমতাবস্থায় যথাযথ পদক্ষেপ না দিলে বিভ্রান্তি ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে। এর থেকে উত্তরণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। নাহলে গণমাধ্যমের নামে মাফিয়াতন্ত্রের ফেইক ডিজিটাল জালে আগের মতোই আটকে যাবে গণমানুষের অধিকার, ন্যায্যতা।

সম্প্রতি অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ফেইক ইন্টারএকশনের স্বর্ণযুগ চলছে বাংলাদেশে। এর থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। জাতীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা দক্ষ জনবলকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে এর ভয়াল রুপ থেকে রক্ষা পেতে পারে আমাদের চারপাশ। লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আসাদুজ্জামান তালুকদার

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}