গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার অভিযানে র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় ৮৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মুন্না মিয়া (২১) ও তাজুল ইসলাম (৩২) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম। এরআগে একইদিন র্যাবের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত মুন্না মিয়া উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ও তাজুল ইসলাম একই এলাকার মৃত তোফায়েল হোসেনের ছেলে। গ্রেফতারকৃতরা অপহরণকারী যুবকের প্রতিবেশী।
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মো. নান্নু মিয়ার ছেলে লিয়ন মিয়া একই উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়ি পাইকা গ্রামের শাহীন মিয়ার স্কুল পড়ুয়া ১৩ বছরের কিশোরী মেয়ে শারিয়া মোসতারিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে অপহৃত মোসতারিনের পরিবার।
ওই মামলায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে যায় র্যাব। এসময় অপহরণকারীর স্বজন ও সহযোগীরা হামলা চালিয়ে অপহরণকারীকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে সেই সাথে র্যাব সদস্যদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। হামলায় র্যাবের অন্তত ৫-৭ জন সদস্য আহত হয়। একপর্যায়ে র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অপহরণকারী লিয়ন বাবুসহ তার দুই প্রতিবেশী মুন্না মিয়া ও তাজুল ইসলামকে আটক করে থানায় নেয়।
পরে শুক্রবার (১৮ জুলাই) র্যাবের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করে র্যাব। মামলায় অপহরণকারী যুবক বাদে ২৮ জনকে নামীয় ও ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। এই মামলায় ওই দুই যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার অভিযানে র্যাবের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ৮৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র্যাব। ওই মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।