সোনালি এক দুপুর ছিল, আকাশ ছিল নীল, স্কুলের মাঠে উড়ছিল স্বপ্নের গাঙচিল। কলরবে মেশা ছিল টিফিন ভাগের ঘ্রাণ, ছুটির ঘণ্টা বাজলেই ঘরে ফেরার টান। হঠাৎ আকাশ চিরে নামলো যেন প্রলয়, বিকট শব্দে জাগলো বুকে অচেনা এক ভয়। বিমান নামক এক লোহার দানব এসে, আগুন ঝরিয়ে থামলো সবুজ ঘাসে। এক নিমিষে থেমে গেল জীবনের সব সুর, হাসির রাজ্য হয়ে গেল এক মৃত্যুপুর। কোথাও ভাঙা টিফিন বাক্স, ঘাসের উপর একা, পড়ে আছে কারো প্রিয় এক পাটি জুতোর দেখা। ছেঁড়া ব্যাগ, আর তার ভেতর পোড়া খাতার পাতা, যেখানে হয়তো লেখা ছিল মায়ের জন্য ভালোবাসা।

একদল শিশু ঘুমিয়ে গেছে, ভাঙবে না সে ঘুম, তাদের জন্য আজ শুধু হাহাকার আর শূন্যতার মরশুম। আর একদল হাসপাতালের সাদা বিছানায় স্তব্ধ, পোড়া শরীর ঢেকে রেখেছে ব্যথার চাদর। নিষ্পাপ চোখে জমে আছে ভয় আর বিস্ময়, প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন এক যন্ত্রণা-কাতর। সারা দেশের আকাশ আজ মেঘে গেছে ছেয়ে, টিভির পর্দায় চোখ রেখে অশ্রু ফেলে ভয়ে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা থেকে ওঠে প্রার্থনার সুর, “হে ঈশ্বর, ফিরিয়ে দাও ওদের শৈশবের সেই নূর।” এক পাটি জুতো আজ শুধু জুতো নয়, এক দীর্ঘশ্বাস, স্তব্ধ বাংলাদেশ জানতে চায়, এ কেমন পরিহাস? কে দেবে জবাব এই পোড়া শৈশবের, এই আর্তনাদের? কেন স্বপ্নের উঠোন ভরে যায় ছাই আর লাশেদের।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}