চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর-দক্ষিণ) বিভাগের এসআই(নিঃ)/ফজলে রাব্বী কায়সার এর নেতৃত্বে টিম নং-০২ এর অফিসার ফোর্স সহ চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র-গুলি উদ্ধার সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান টিম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুনব্রিজ মোড় এলাকায় অবস্থান করাকালীন ২৭ জুলাই ০৯:১০ মিনিটের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাকলিয়া থানার তক্তারপুল এলাকার খালপাড়া নামক জায়গায় অবস্থান করতেছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে এসআই ফজলে রাব্বী কায়সার তার আভিযানিক টিমসহ বাকলিয়া থানাধীন তক্তারপুল সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় পৌঁছলে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত স্থান হইতে দুইজন লোক দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে অভিযানিক টিম একজন আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয়। অপর একজন আসামী দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটককৃত আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম ১। মোঃ সুমন (১৯), পিতা-মোঃ জামাল, মাতা-জোনাকি বেগম, স্থায়ী সাং-করিমপুর, ছামেদ মিয়ার বাড়ি,০৯নং ওয়ার্ড, ১৩নং মুরাদনগর সদর ইউনিয়ন, থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমানে-তক্তারপুল, দৌলতখানের কলোনী, ০৩নং বাসা, ১৮নং দক্ষিণ বাকলিয়া সিটি কর্পোর ওয়ার্ড, খানা-বাকলিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম এবং পলাতক আসামীর নাম মোঃ আসিফ(২৬) বলে জানায়।

উক্ত আসামীকে ডিবি পুলিশ দেখে পালানোর চেষ্টার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে কোন সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে এলোমেলো ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানায়, সে ও পলাতক আসামী মোঃ আসিফ (২৬) যৌথভাবে গত ২৫/০৭/২০২৫ইং তারিখ বাকলিয়া থানাধীন আরাকান রোড সংলগ্ন ০৫নং ব্রীজের পশ্চিম পাশে মাদক ব্যবসার আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মোঃ মহিউদ্দিন (৪৫) নামের একজনকে বিদেশী পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে উক্ত ঘটনায় বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং সেই মামলার কারণে পুলিশ তাদেরকে এরেস্ট করার জন্য খুঁজছে বলে জানায়। ডিবি টিমের নেতৃত্বদান কারী অফিসার এসআই/ফজলে রাব্বী কায়সার ধৃত আসামীর দেওয়া তথ্য যাচাই করার জন্য তাৎক্ষণিক বাকলিয়া থানায় যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা পান এবং উক্ত খুনের ঘটনায় বর্ণিত গ্রেফতারকৃত আসামী সহ পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানার মামলা নং-৩৬, তারিখ-২৬/০৭/২০২৫ইং, ধারা-৩০২ পেনাল কোড রুজু আছে মর্মে জানতে পারেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে ভিকটিম মহিউদ্দিন হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি বাকলিয়া থানাধীন ১৮নং দক্ষিণ বাকলিয়া তক্তারপুল সংলগ্ন খাল পাড়ের পূর্ব পাশে আবু সওদাগরের কলোনীর পিছনে খালের দেয়ালের সাথে ইটের স্তুপের নিচে লুকিয়ে রাখে। অভিযানিক টিম আসামীকে নিয়ে উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে আসামীর দেখানো, সনাক্তমতে ক) ০১ (এক)টি পুরাতন কালচে রংয়ের সচল বিদেশী পিস্তল, যার ফায়ারিং পিন, ট্রিগার ও ম্যাগাজিন সংযুক্ত, লম্বা ০৮ ইঞ্চি, যার ব্যারেলের গায়ে ইংরেজিতে খোদাই করা NO-1711, যার বডির এক পাশে ইংরেজিতে খোদাই করা AUTO PISTAL এবং অপর পাশে ইংরেজিতে খোদাই করা MADE IN U.S.A লিখা আছে, যাতে ০৩ (তিন) রাউন্ড তাজা গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন সংযুক্ত, যার প্রতিটি গুলির পারকিউশান ক্যাপের পিছনে ইংরেজিতে KF 7.65 লিখা উদ্ধার করেন। গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}