ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা ‘সার্বজনীন গ্রুপ’। এরই অংশ হিসেবে চলমান “উদ্যোক্তা তৈরি ও অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি”র ১২তম ক্লাস আজ ২ আগস্ট পৌর শহরের কোর্ট রোডে অবস্থিত আয়েশা আমজাদ টাওয়ারের ৩য় তলায় অনুষ্ঠিত হয়। ‎ ‎প্রশিক্ষণ কর্মসূচির যৌথ পরিচালনায় ছিলেন সার্বজনীন গ্রুপের পরিচালক তানজিনা আক্তার শিলা ও সাংবাদিক জামাল হোসেন পান্না। ‎কর্মশালার শুরুতে আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন আইটি বিশেষজ্ঞ মোয়াজ্জেম হোসেন মুন। তিনি বলেন, “বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা খুব সহজেই ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ নানা খাতে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতি।” ‎ ‎

প্রশিক্ষণার্থীদের অনুপ্রাণিত করে বক্তব্য দেন সার্বজনীন গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার এম. এইচ. শান্তি। তিনি বলেন, “নিজেকে জানতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে নিজের ওপর, তাহলেই একজন মানুষ তার ভেতরে থাকা সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারে। আমরা চাই, নবীনগরের প্রতিটি তরুণ যেন আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে।” ‎ ‎এদিন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ব্লক বাটিকের কাজ প্রদর্শন করেন প্রশিক্ষক রুমা আক্তার। তিনি ব্লক বাটিক প্রিন্টের প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করে কাপড়ে নকশা বসানো, রঙ প্রয়োগসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ‎ ‎উল্লেখ্য, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বজনীন গ্রুপ গত ৩ মে থেকে “উদ্যোক্তা তৈরি ও অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ” কর্মসূচির সূচনা করে। প্রথম ব্যাচে ৪২ জন তরুণ-তরুণী নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রশিক্ষণের প্রতিটি ক্লাসে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রাথমিক ব্যবসা পরিকল্পনা, নেতৃত্বগুণ, সেলফ ব্র্যান্ডিং ও হাতে-কলমে কাজ শেখানো হচ্ছে। ‎ ‎প্রশিক্ষণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী জেমিন আক্তার। ‎অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এস. এ. রুবেল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অজয় মুখার্জি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশিক্ষণার্থী তরুণ-তরুণীরা। ‎ ‎সার্বজনীন গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. এইচ. শান্তি বলেন, “আমরা ২০০১ সাল থেকেই আত্মকর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য— তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে তাদের কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল মানুষে পরিণত করা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা শুধু একটি কাজ শিখবে না, বরং নিজেরাই একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}