শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা বেদনাহত হৃদয়ে ২০২৪ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলন হতে গণআন্দোলনে রূপ নেয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ এবং এক বছরেও বর্তমান সরকার বিপুল সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী, নারী পুরুষ, শিশু নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার শুরু করতে না পারায় প্রচন্ড ক্ষোভ ব্যক্ত করার মাধ্যমে ৫ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৫ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সরকারের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যগণ এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহমুদা আক্তার এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নোমান মিয়া, ডিডিএলজি (উপ-সচিব) শংকর কুমার বিশ্বাস।

এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ এবং এক বছরেও বর্তমান সরকার বিপুল সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী, নারী পুরুষ, শিশু নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার শুরু করতে না পারায় প্রচন্ড ক্ষোভ ব্যক্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সার্বিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করার দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শহীদ মাহমুদুল হাসান এর স্ত্রী বুশরা আক্তার, শহীদ কামরুল ইসলাম এর পিতা নোমান মিয়া, শহীদ মোনায়েম আহমেদ ইমরান এর পিতা ছোয়াব মিয়া, শহীদ জুবায়ের এর পিতা জাহাঙ্গীর খান, শহীদ জাবেদ ইবরাহিম এর পিতা মোঃ কামাল হোসেন, শহীদ মোবারক হোসেন এর পিতা মোঃ রমজান আলী, শহীদ তানজিল মাহমুদ সুজন এর বোন ইসরাত জাহান, আহবায়ক জুলাই যোদ্ধা জয়ন্তী বিশ্বাস, সাইফুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, আল আমিন, সোহেল আফজাল, রুবেল চৌধুরী প্রমুখ জুলাই যোদ্ধাগণ। আরো বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথি জেলা শাখা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক আজিজুল রহমান লিটন, খেলাফত মজলিশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহসিনুল ইসলাম, জেলা শাখা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আশরাফুল হাসান তপু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বায়েজিদুর রহমান সিয়াম।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে তো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ হওয়া ও আহত হয়ে পঙ্গুত্বের কবলে পড়াদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির স্বার্থে এ ঘটনায় জড়িত তৎকালীন পুলিশ সদস্য এবং রাজনৈতিক দলীয় কর্মীদের বিচারের কোন লক্ষণই নাই। তারা সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা খেয়াল রাখবেন যেন বিচার কায়েম হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ দিদারুল আলম বলেন, বাংলাদেশে কখনই শান্তি ছিল না। কারণ হলো আমরা যখন মানুষ চয়েজ করি তখন সঠিক ভাবে করি না। এটা আমাদের ভুল। এই ভুলটা যেন না হই, সে জন্য সঠিক ভাবে মানুষ চয়েজ করতে হবে জেনে বুঝে। তাহলেই বাংলাদেশে শান্তি আসবে। বিচার চাইলেই শুরু করা যায় না। এ জন্য আইন অনুসারে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

তিনি সংশ্লিষ্ট বিচার প্রার্থী সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ধৈর্য্য ধারণ করার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, জুলাই আন্দোলন যেটা হয়েছে এতে যারা অংশ নিয়েছেন মনে হয় তাদের আল্লাহ পাঠিয়েছেন। যার ফলে ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াটা এমন ভাবে করতে হবে যাতে সবাই ন্যায় বিচার পায়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নোমান মিয়া আহত জুলাই যোদ্ধাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল হাসপাতালে আহতদের মধ্যে বরাদ্দকৃত স্বাস্থ্য কার্ডের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, পুলিশে সংস্কার হলে ভালো পুলিশ পাবেন। সংস্কার না হলে ভালো পুলিশ পাবেন না। অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩০ শহীদের  মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দাফনকৃত গ্যাজেটভূক্ত ১৮/১৯ জনের মধ্যে ১১ জন শহীদের পরিবার এবং ৯৭ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। তাদের মধ্যে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো ক্রেস্টসহ বিভিন্ন ধরণের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র উদ্যোগে প্রধান সমন্বয়ক আজিজুর রহমান লিটন এর সভাপতিত্বে দক্ষিণ পৈরতলায় দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}