গাইবান্ধায় হোটেলে খাবার খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা। টাকা চাওয়ায় গুলি ছুড়ে ২ জনকে আহত করে সটকে পড়েছে গোলাপ প্রামানিক (৩৬) নামের এক দূর্বৃত্ত। পুলিশ বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের নাপিত বাজারে। আহতরা হচ্ছে ওই বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী ও পার্শ্ববর্তী ইদিলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চকদাড়িয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক আকন্দের ছেলে ওয়াসিম আকন্দ (১৮), আব্দুল মজিদের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪০)। দূর্বৃত্ত গোলাপ প্রামানিক একই গ্রামের তয়েজ উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোলাপ সঙ্গে ২ জনকে নিয়ে নাপিত বাজারে আবু বক্কর সিদ্দিকের হোটেলে এসে চা-সিঙ্গারা খান। পরে দাম না দিয়ে চলে যাবার জন্য রওনা হন।

এ সময় বাঁধা দিয়ে ওয়াসিম বাকি দেয়া যাবে না বলে তাকে জানান। সেই সাথে আগের বাকী টাকাও পরিশোধের তাগদা দেন। এ নিয়ে বাকবিতান্ডার এক পর্যায়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে ওয়াসিমের রানে গুলি করে গোলাপ। গুলিবিদ্ধ হয়ে ওয়াসিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করতে সেলিনা বেগম এগিয়ে গেলে তার রানেও গুলি করে গোলাপ। আহতদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার এক আতংকের নাম গোলাপ আকন্দ। সে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গাইবান্ধা-০৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের ফ্যাসিস্ট আ’লীগের সাবেক এমপি অ্যাড. উম্মে কুলছুম স্মৃতির পিএস ছিলেন। এলাকায় এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতির পালিত সন্তান হিসেবেও গোলাপ পরিচিত। তিনি সম্প্রতি মাদক ও চোরাকারবারী বিভিন্ন ব্যবসাসহ নানান অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার জানান, গোলাপকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সময় তিনি পিস্তল, বন্দুক নাকি অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া তার কোন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।