সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপপুর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর সহ বেশকটি গ্রামটি পিয়াইন নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। বালু খেকোরা দানবযন্ত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিবারাত্রি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমিও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। প্রতাপুর গ্রামের সিদ্দিক আহমদ,সেবুল মিয়াসহ আরো অনেকে এ প্রতিবেদকে জানান, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের উত্তরপ্রতাপপুর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর ও লুনি গ্রামের খায়রুল আমিন, আজির উদ্দিন, নুরুল ইসলাম, সেলিম মিয়া,ফয়জুল মুরব্বি, তোফায়েল আহমদ , গোলাম মৌলা মেম্বার, সালেহ আহমেদ, সিরাজ মিয়া, রুবেল আহমদ, মানিক মিয়া, রাজ্জাক মিয়া,শুক্কুর মিয়া ও সেলিম মিয়াসহ একটি সংবদ্ধ বালু খেকোচক্র পিয়াইন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বালু খেকোচক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় অসহায় স্থানীয় এলাকাবাসী অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছেনা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গত আড়াই মাস ধরে গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর এলাকায় পিয়াইন নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন বালুখেকোরা। এতে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর, উত্তরপ্রতাপুর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর সহ বেশকটি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। তারপরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। হাজিপুর এলাকার উত্তরপ্রতাপপুর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেকের ঘরবাড়ি এরই মধ্যে ভেঙে গেছে। কারও বাড়ির রান্নাঘরের চুলা ভাঙনের প্রান্তসীমায়। হেলেনা বেগম নামের একজন গৃহিণী জানান, তার তিনটি সন্তান। স্বামী-সন্তান নিয়ে এখন তাদের থাকার জায়গা নেই। তিনি বলেন, আগে বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সে আশ্রয়ও এবার ভেঙে গেলো।

এখন কোথায় যাবো আমরা? গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ঘরবাড়ি থেকে নদী ৫০০ মিটার দূরে থাকলেও ভাঙতে ভাঙতে এবার বাড়ির সীমানায় এসে ঠেকেছে। অনেকে এরই মধ্যে সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছেন। দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ না করা গেলে গ্রামের রাস্তাঘাটসহ প্রায় ১০০ বাড়ি পিয়াইনগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয়রা আরো জানান, বালুখেকোদের কারণে সরকারের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাড়িঘর-ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এব্যারে অভিযুক্ত পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের লুনি গ্রামের খায়রুল আমিন জানান, তিনি বালু খেকোচক্রের সাথে সম্পৃক্ত নয়। প্রমান করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে।

প্রবীণ সাংবাদিক কামাল উদ্দিন আহমদ বলেন, পিয়াইন নদীর হাজিপুর এলাকা থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান প্রবীণ ওই সাংবাদিক। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার তোফায়েল বলেন, হাজিপুর এলাকায় পিয়াইন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়েছি। পুলিশ ওই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্দে ব্যবস্থা। নিচ্ছে। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন, হাজিপুর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে একটি পুলিশ টীম সেখানে পাটিয়েছি। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}