ওমান বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৯২), সাবেক সভাপতি (২০০৩-২০০৬) এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম শুধু প্রবাসী রাজনীতির একজন পথপ্রদর্শকই নন, বরং সমাজসেবা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ক্রীড়াঙ্গনেও রেখেছেন তাঁর অনন্য অবদান। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও কল্যাণে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।

১৯৯৫ সালে তিনি বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের প্রথম নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রবাসীদের সাংগঠনিক শক্তিকে সুদৃঢ় করেন। একই সময়ে বাংলাদেশ সমিতি ওমানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও তিনি নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সমিতির (২০০৭-২০১০) প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ ওমান কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বোয়ালখালী প্রবাসী সমাজকল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও ছিলেন তিনি।

শুধু প্রবাস নয়, নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশেও তিনি রেখে গেছেন উজ্জ্বল অবদান। ছাত্রজীবনে চট্টগ্রামের হামজারবাগ রাহমানিয়া হাই স্কুলে ছাত্র সংসদের নেতা, স্কাউট লিডার এবং ক্রীড়া-সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় বহুবার চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন স্কাউট দল জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৮০ সালে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া পাঁচলাইশ থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, শুলকবহর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের একজন ছিলেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন অগ্রণী। চট্টগ্রাম দোকান মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক, বিবিরহাট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ষোলশহর বনগবেষণাগার উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ স্কুল প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নাট্য সংগঠন “অঙ্গন”-এর মাধ্যমে বহু নাটকে অভিনয় ও নাটক রচনা করেন। প্রবাসে ওমান দূতাবাসের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছেন, যার মধ্যে ২০০৭ সালে ওমান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ইংরেজি সুভেনিয়ার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ক্রীড়াঙ্গনেও তিনি ছিলেন নিবেদিত। শতাব্দী গোষ্ঠী অনুমোদিত প্রথম বিভাগ ক্রিকেট দলের সাধারণ সম্পাদক, দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল দলের সংগঠক ও কিশোর বিভাগের সভাপতি ছিলেন তিনি। শিশু সংগঠন কচিমুখ খেলাঘর আসর এবং চট্টগ্রাম কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন “সোপান”-এর সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

শুধু সংগঠন নয়, মানবিক কাজেও তিনি রেখেছেন স্থায়ী দৃষ্টান্ত। অসুস্থ প্রবাসী রোগীদের ওমান থেকে বাংলাদেশে নিজ খরচে পাঠানোসহ অসংখ্য সামাজিক কাজে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

রাজনীতি, সমাজসেবা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৈয়দ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলামের অবদান তাঁকে একজন দূরদর্শী সংগঠক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}