কৃষকদের প্রতি গভীর মমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। জন্মগত প্রতিভা, কর্ম দক্ষতা আর মানসিক দৃঢ়তায় আলোকিত তার বিশাল কর্মযজ্ঞ। সকল অনিয়ম দুর্নীতির উর্ধ্বে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করাই তার একমাত্র লক্ষ্য।

কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ২০২৫ সালের ৩০ জুন সাঘাটা উপজেলায় যোগদান করেন। এখানে যোগদান করেই কৃষকদের পাশে থেকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে আসছেন। তিনি কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ ব্যবহার, সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। এছাড়াও, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সরাসরি সহযোগিতা করছেন এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও কৃষকদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার কারণে এলাকার কৃষকরা আজ লাভজনক ফসল উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছেন।

কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর সাফল্য মূলত তার কর্মনিষ্ঠা এবং কৃষকদের প্রতি গভীর মমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তা নন, বরং একজন প্রকৃত বন্ধু এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে কৃষকদের কাছে সমাদৃত হয়ে উঠেছেন।

উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের নিয়ে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে আধুনিক চাষাবাদের কৌশল শিখিয়ে আসছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের বীজ সরবরাহ করে ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছেন। সার ও কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক নিয়মাবলী শিখিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে চাষাবাদে উৎসাহিত করছেন।
উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের সহায়তা করছেন এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করছেন। এ ছাড়াও
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সরাসরি সহযোগিতা করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছেন।

এরই ধারাবাহিকতার মুখে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় রোপা আমন চাষে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ইতোমধ্যে সরকারের দেয়া প্রণোদনার অংশ হিসেবে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ধান বীজসহ সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের দিচ্ছেন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পরামর্শ। এ ছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণও মাঠ পর্যায়ে তদারকিসহ সহযোগীতা করছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে অন্যান্য বারের ন্যায় এবারও এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে আশা কৃষকদের।

কৃষকরা জানান, কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান
এর আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি শুধু একজন কৃষি কর্মকর্তা নন, কৃষকদের একজন পথ প্রদর্শক। প্রতিটি কাজ অতি আন্তরিকতার সাথে করেন। তার সঠিক পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা কাজের অগ্রগতি বাড়িয়ে দেয়। যিনি তার কাজের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তনে অবদান রাখছেন।

কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, কৃষকরা দেশের সম্পদ। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং কৃষকরাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই দেশের অধিকাংশ মানুষের খাদ্য যোগান দেয়া হয়। কৃষকরা ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, ফলমূল, এবং অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন করে দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করেন। পাট, চা, আখ, ইত্যাদি অর্থকরী ফসল উৎপাদন করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন।দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হয় কৃষিখাতে।

তিনি জানান, লাভজনক ফসলের মধ্যে শিম চাষ অন্যতম একটি ফসল। গ্রীষ্মকালেও শিম চাষ করা সম্ভব, এতে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়। শিম প্রোটিন ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ একটি জনপ্রিয় সবজি।প্রায় সব ধরনের জমিতে শিম চাষ করা যায়। এ ছাড়াও বাড়ির আঙিনায় বা ছাদেও এর চাষ করা যায়।

তাই কৃষকদের সার্বিক দিক চিন্তা করে এবারে খুলনা থেকে উন্নত জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম বীজ সরবরাহ করে ইতোমধ্যে এ উপজেলার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে শিম গাছের পরিচর্যা করা হলে উৎপাদিত শিম কৃষকরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ২শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। কৃষকরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখেন। তাদের উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটান এবং দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করেন। বিভিন্ন শিল্পের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করে থাকেন।

সুতরাং, কৃষকদের অবদান অনস্বীকার্য এবং তারা দেশের সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা করা উচিত। তিনি বলেন, আমি হয়তো একদিন এ উপজেলায় থাকব না, কিন্তু থেকে যাবে আমার কর্ম আর কৃষকদের প্রতি গভীর মমতা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}