সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির দুদিনব্যাপী জেলা সম্মেলন শুরু হয়েছে। ‎

বৃহস্পতিবার বিকেলে গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার চত্বরে এই সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ। ‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার সাত উপজেলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। শুক্রবার কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্যদিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।

কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. শাহাদৎ হোসেন লাকুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নিমাই গাঙ্গুলি। এছাড়াও সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আহবায়ক সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ। সম্মেলন উপস্থাপন করেন জেলা সিপিবির সহ-সাধারণ সম্পাদক মুরাদজামান রব্বানী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য বারবার রাজপথে নেমেছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু তাদের বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন একদল লোক লুটে নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ আবারও নতুন করে জেঁকে বসছে। এই ফ্যাসিবাদের অবসান করতে না পারলে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সুফল পাবে না জনগণ। তিনি আমেরিকা, চীন, ভারতসহ বহির্দেশের হস্তক্ষেপমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিহির ঘোষ বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে মানুষ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করেছিল। কিন্তু অন্তবর্তী সরকারের এক বছরে কর্মকাণ্ড মানুষের সেই প্রত্যাশা হতাশায় পরিণত হয়েছে। ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে আগের মতই। দেশে নারীর প্রতি সহিংসতাসহ মব সন্ত্রাস বেড়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী তোষণ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় মদদ দেয়ার প্রবণতা দেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনে করে এসবের বিরুদ্ধে সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী বাম গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের বিকল্প নেই।

সিপিবি’র জেলা সম্মেলন উপলক্ষে লাল পতাকার একটি বিশাল র‍্যালী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর আগে শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}