“বিন্দু থেকে সিন্ধু” কিংবা “মরুতে সরোবর” কোন উপমাই যথেষ্ট নয়। বলছিলাম, গাইবান্ধার ফুলছড়ির বুড়াইল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর কথা। এটি ১৯৯৬ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও নদী ভাঙ্গনের কারণে ২০০৫ সালে স্থানান্তর করা হয় ফুলছড়ি উপজেলাধীন হেডকোয়ার্টার সংলগ্ন স্থানে। মূলত প্রতিষ্ঠা লগ্নে এটি ছিল জৌলস বিহীন একটি প্রতিষ্ঠান। বেতন নেই, ভাতা নেই, শ্রেণি কক্ষ নেই, তেমন ছাত্র/ছাত্রী নেই, শুধু নেই আর নেই। কিছু উদারমনা মানুষের শুভ কামনা আর বুদ্ধি পরামর্শ, শিক্ষক নামের কিছু তরুনের উদ্যমতা, আশে-পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চ্যালেঞ্জে থেমে যায়নি এর পথ চলা। প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে চলার ধারাবাহিকতার মুখে এর হাল ধরেন উদ্যমী শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম। তিনি অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে প্রথমেই দৃষ্টি দেন পাঠদান দক্ষতা বৃদ্ধি, ছাত্র/ছাত্রী অভিভাবকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন দিকে। তার এ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ। প্রতিটি সুযোগকে সুন্দরভাবে কাজে লাগান অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম। বর্তমান এ প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের কাছে তথা ফুলছড়ি উপজেলাবাসীর জন্য আশীর্বাদ।

জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক/শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক সেবা দেয়া হয়। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম অভিভাবক/ শিক্ষার্থীদের জন্য এই সেবা প্রাপ্তিকে হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়ে আসছেন। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সুস্থ, সৃজনশীল ও মননশীল চর্চার মাধ্যমে অপসংস্কৃতি ও কুসংস্কার মুক্ত হয়ে দেশপ্রেমিক, আত্মপ্রত্যয়ী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মানসে এ প্রতিষ্ঠানের সূচনা। আজ অবধি তার বাস্তবায়ন চলছে। ছাত্র/ছাত্রীদেরকে ডিগ্রী/সার্টিফিকেট প্রদান নয়, মানুষের মানবিক গুনাবলির বিকাশ ঘটানোই প্রতিষ্ঠানটির মূললক্ষ্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ পরিকল্পনায় সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের লক্ষ্যে মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সারা বাংলাদেশে ৩১৫টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকানুযায়ী বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে বুড়াইল স্কুল এন্ড কলেজটিকে একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

২০০৮ সালের পর নির্বাচিত সরকার সারাদেশে প্রত্যেক উপজেলায় একটি স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মডেল প্রতিষ্ঠান গুলোকে জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১৫টি মডেল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭৮ টি মডেল প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হয়। পরিতাপের বিষয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশতঃ বুড়াইল মডেল স্কুল এন্ড কলেজটিকে জাতীয় করণ না করে উপজেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে উপজেলার সর্বশেষ প্রান্তে সাঘাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের জন্য মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করা হয়। এর ফলে জাতীয় করণের সুফল থেকে বঞ্চিত করা হয় উপজেলাবাসীকে। তাদের দাবী, মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে এ প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত জাতীয় করণ করা হোক। অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ২০০০ এর অধিক ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন করে এবং পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করা হয়।

ফুলছড়ি উপজেলার মধ্যে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সর্বাগ্রে ৮০% এর উপরে বরাবরই অবস্থান করে। উপজেলা হেডকোয়ার্টার সংলগ্ন কোন সরকারি স্কুল কলেজ না থাকার কারণে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের সন্তানেরা তথা এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এরপরও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সচেতনতা আর এক ঝাক তরুণ মেধাবী শিক্ষক/শিক্ষিকার গতিশীল নেতৃত্বে থেমে থাকছেনা এ প্রতিষ্ঠানের চলার ছন্দ। পরিশেষে এ কথা না বললেই নয় ইলেক্ট্রনিক ও প্রিণ্ট মিডিয়ার কল্যাণে এ প্রতিষ্ঠান আজ ফুলছড়ি তথা গাইবান্ধা জেলায় সুপরিচিত এক নাম। অনেকের কাছে বিস্ময়, অনেকের কাছে আরাধনা, কারো কাছে উদাহরণ, কারো প্রেরণা। তিনি কামনা করেন এর পুনঃ পুনঃ সাফল্য।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}