কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় বগারা খাল দখল করে মার্কেট নির্মান,বাড়ি নির্মান ও ফিসারী দিয়ে পানি প্রবাহের পথে বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা,এতে এ খালের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র পুরোপুরি ধংসের পথে।

এটি এখন কৃষকের মরনফাঁদে পরিনত হয়েছে। শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় অনাবাদি হয়ে পড়লেও এসব ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না সংশ্লিস্ট প্রশাসন। এতে খাল দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে খালটির অস্তিত্ব প্রায় বিলীন করে ফেলছে দখলকাররা। স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় খালের পানি দিয়ে জমিতে সেচ দিতে না পারায় খালের দুপারের নিরীহ কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হাতে এসব ভুমিদস্যুদের তালিকা থাকলেও উচ্ছেদ না করার কারনে অনেকে নিজেদের নামে জমি রেকর্ড আছে বলে নিজেদের জমি বলে দখলকাররা বলে বেড়াচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এ খালটির বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে দখল করে ফিশারি দিয়ে খন্ড খন্ড করে ফেলছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

সিদলা ইউনিয়নের ধলাপাতা গ্রামের কৃষক রুকন উদ্দিন রতন (৬০) বলেন, আমাদের বাপ-দাদারা বলতেন এ খাল দিয়ে এক সময় নৌকা চলাচল করত। বিগত সময়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এ বগারা খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে খালের পানির প্রবাহ সচল করেছিলেন। তখন এ খালের প্রন্থ ছিল একশ ফুটেরও বেশি। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা খালটি দখল করতে শুরু করে বলে স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান। বগারার খাল ঘেঁষা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সানুজ্জিয়াল গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন,খাল দখলকারীরা বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহলের লোক হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারন মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারেনি।

খাল দখলের কারণে জীনারী,বিলবাগমারা, হলিমা, ধলাপাতা, রামেশ্বরপুর, তারাপাশা, কালিয়ান, সানুজ্জিয়াল, দশধারসহ আরও অনেক এলাকার তিন ফসলি জমি বর্ষা মৌসমে জলাবদ্ধতা ও শুকনা মৌসুমে সেচের কারনে অনাবাদি পড়ে থাকে বলে কৃষকরা জানান। ফলে দরিদ্র কষকরা সেচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করতে না পেরে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে খাল দখল করে ভরাট করায় কারনে অতি বৃষ্টিতে জমিতে পানি আটকে যাওয়ায় কৃষকের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন,হেলাল উদ্দিন,শাহ আলম, তফাজ্জল হোসেন,কাঞ্চন মিয়া,মতি মিয়া,শহীদ নিয়া,শফিকুল ইসলামসহ অনেক কৃষক ও সাধারন মানুষ অভিযোগ করে বলেছেন,স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের কাছে বহুবার এ বিষয়ে অভিযোগ জানালেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন,খালের সম্পত্তি উদ্ধার করে খননের আওতায় আনা হলে একদিকে কৃষি জমিগুলো জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে,সেচ সুবিধা পাবে কৃষক, অন্যদিকে সরকারি বগারা খালের বেহাত জমি উদ্ধার হবে,এতে করে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র আবার ফিরে আসবে। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, বগারার খাল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করে খননের জন্য মহাপরিচালক বরাবর প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে, সরাসরি বরাদ্দ সাপেক্ষে খালটিকে খননের আওতায় আনা হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}