কর্মজীবন শুরু করার আগেই নাজমা তানিয়া সোমার মধ্যে ছিল শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার এক অটল আগ্রহ। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি চট্টগ্রামের একটি খ্যাতনামা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষক হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং দীর্ঘ সময় শিক্ষকতার মহৎ পেশায় নিজেকে নিবেদিত রাখেন।
২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারির সময় সোমা তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন SKILLS, একটি BTL এবং ইভেন্ট মার্কেটিং এজেন্সি। কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। তবে সাফল্যেই থেমে থাকার মানুষ নন সোমা।
২০২৪ সালের শুরুতে তিনি যখন বিশ্বের বৃহত্তম আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম BRAC Kumon সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন তিনি অনুপ্রাণিত হন এই বৈশ্বিক শিক্ষণ পদ্ধতিটি চট্টগ্রামে নিয়ে আসতে। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তিনি গর্বের সঙ্গে উদ্বোধন করেন BRAC KUMON GEC মোড় সেন্টার, যা ইউনুসকো সেন্টারে অবস্থিত।
বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কুমন ৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ইংরেজি ও গণিত শিক্ষায় সহায়তা করে, যাতে তারা স্বাধীন শিক্ষার্থী, আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি ও দক্ষ সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালে প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদের দূরদর্শী উদ্যোগে কুমনের যাত্রা শুরু হয় ঢাকায়, এবং বর্তমানে রাজধানীতে এর ২৫টিরও বেশি সফল সেন্টার রয়েছে।
ঢাকার এই সফলতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সোমা ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কুমনকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন, যা তাকে এ অঞ্চলের অগ্রদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিমধ্যেই হালিশহরে আরেকটি সেন্টার চালু হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে আরও তিন থেকে চারটি সেন্টার খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কুমন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সোমা জানান, কুমন তার কাছে শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। তার বিশ্বাস, অনেক শিশু অসাধারণ সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়, কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে তারা এগিয়ে যেতে পারে না। কুমন সেই প্ল্যাটফর্ম, যা শিশুদের সক্ষমতা উন্মোচন করে এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে সহায়তা করে।
কুমনের বাইরে সোমা পরিচালনা করছেন আরও দুটি উদ্যোগ—SKILLS এবং একটি বিদেশে উচ্চশিক্ষা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান। অবসরের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে বলেন, “আমার কাছে কাজই অবসর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি কাজ করে যেতে চাই। যদি আমার কাজ সমাজের সামান্যতম উপকারেও আসে, তবে আমি আমার জীবনকে অর্থবহ মনে করব।