কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নারীসহ বিএনপির এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে দেবিদ্বার থানা পুলিশ উপজেলার বুড়িরপাড় গ্রামের ফিরোজ মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম (৪৫) ও গুনাইঘর (ইকরানগর) এলাকার মৃত দৌলত খানের পুত্র বিএনপি কর্মী হেলাল খান (২৮)-কে আটক করে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে উপজেলার ছোট আলমপুর এলাকায় পুলিশ সদস্য মো. আবু কাউছার (৩২)-কে জিম্মি করে মারধর ও চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার পুত্র এবং বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় কর্মরত।
পুলিশ জানায়, আবু কাউছারকে তার আপন চাচী আমেনা বেগম জমি কেনার কথা বলে দেবিদ্বার সদরে ডেকে আনেন। পরে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের একটি ভবনের পঞ্চম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত হেলাল খান ও কামাল হোসেনসহ কয়েকজন মিলে তাকে আটক করে রাখে।
এসময় তারা আবু কাউছারের সাবেক স্ত্রী তাছলিমা আক্তার-এর যোগসাজশে বিভিন্ন ভিডিও ধারণ করে পুনরায় বিয়ে বা ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিয়েতে রাজি না হলে মারধর ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী মানসম্মানের ভয়ে তাদের হাতে থাকা ১৩ হাজার টাকা ও প্রায় ৫০ হাজার টাকার একটি আংটি দেন। পরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী ইশরাত জাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় আবু কাউছারের স্ত্রী ইশরাত জাহান বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় পুলিশ সদস্যের সাবেক স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, চাচী আমেনা বেগম, পৌরসভার সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন বিল্লু, বিএনপি নেতা কানা জালাল, কামাল হোসেন ও হেলাল খানসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “দেবিদ্বারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”