গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একদল সঙ্ঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও উচ্ছেদ চক্রের দুঃসহ নিপীড়ন-নির্যাতনে ভিটেমাটি ছেড়ে মান-সম্মান ও প্রাণ বাঁচাতে নির্বাসিত জীবন যাপনের আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত সংখ্যালঘু পরিবার।

ভূমিদস্যুদের এমন তাণ্ডবে নিশ্চুপ- নির্বাক এলাকার গণ্যমান্য সমাজ সচেতন ব্যক্তিরাও।
ঘটনার আদ্যোপান্ত ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,
সাদুুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত নির্মল কুমার চৌধুরীর পুত্র নিখিল কুমার চৌধুরী ও উৎপল কুমার চৌধুরী সুশিক্ষা লাভ করে সুসম্মানের সাথে এলাকায় বসবাস করে আসছেন। এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকার ভূমিদস্যু একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত ছোলায়মানের পুত্র মতিয়ার রহমান শামীমগং।
এই প্রতিপক্ষ মতিয়ার রহমান শামীমগং সংখ্যালঘুর সুযোগ নিয়ে নিখিল কুমার চৌধুরী ও উৎপল কুমার চৌধুরীর সহায় সম্পদ গ্রাস করে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন ভাবে ফন্দি এটে আসছে। তারা নিখিল কুমার চৌধুরী ও উৎপল কুমার চৌধুরীর পৈত্রিক সম্পত্তি বা জমির দাবী করে বিরোধ সৃষ্টি করে জবর দখলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী নিখিল কুমার চৌধুরী ও উৎপল কুমার চৌধুরীর অভিযোগ, ওই সংঘবদ্ধ প্রতিপক্ষগণ আমাদের স্বত্ব দখলীয় জমি-জমা বেদখলের হীন উদ্দেশ্যে কিছু সংখ্যক জাল যোগসাজসী কাগজপত্র সৃজন করে বিজ্ঞ আদালতে ১৯৮৪ সালে অন্য-২৩৪/৮৪ নং স্বত্বের মোকাদ্দমা দায়ের করলে তাদের সকল কাগজপত্র তঞ্চকতা পূর্ণ বলে আখ্যায়িত করে বিজ্ঞ আদালত ৩০/১২/১৯৯২ ইং তারিখে ডিসমিস করে রায় প্রদান করেন যা এখনো বহাল রয়েছে। এরপর ওই প্রতিপক্ষগন ৫৫/১৪নং স্বত্ব ঘোষনার মোকাদ্দমা দায়ের করে রায় ঘোষনার পূর্ব মুহুর্তেই প্রত্যাহার করে পুনরায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য জজ আদালতে অন্য ২২৯/১৪নং মোকাদ্দমা দায়ের করে। এ মোকদ্দমায় গত ১৯/০৯/২০২৩ইং তারিখের রায়ে প্রতিপক্ষগণ পরাজিত হয়ে আবারও ২৬৮/২৪নং আপিল মামলা দায়ের করেন। যা চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী নিখিল কুমার চৌধুরী ও উৎপল কুমার চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, দলভুক্ত প্রতিপক্ষগন এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি গত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরে দেশে আইন শৃঙ্খলার এক বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে স্বত্বদখলীয় বসত বাড়ী সংলগ্ন জমিতে হামলা করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে, গাছ, বাঁশ কর্তনসহ পুকুরের মৎস্য খামারের কমপক্ষে ২/৩ লক্ষ টাকার মাছ ধরে পুকুর ঘিরে রাখা লক্ষাধিক টাকা মুল্যের নেট জালও নিয়ে যায়। সেসময় নানাবিধ উপায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেয়ার চেষ্টা করা হলেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী নিখিল কুমার চৌধুরী ও উৎপল কুমার চৌধুরীর দাবী, ওই ভুমিদস্যু প্রতিপক্ষগণ আমাদের পূর্ব পুরুষের সময় হতে এই স্বত দখলীয় জমি-জমা বেদখল দেয়ার চেষ্টা করে অনেক বার ব্যর্থ হয়েছে।
তারা এতটাই দুর্দান্ত ও আক্রমনাত্মক হয়েছে তারা সুযোগ পেলেই জমি-জমা বেদখল দিবে, বাড়ঘর সহায় সম্পত্তি লুট পাট করে পৈত্রিক জন্ম ভিটা থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দিবে। তাদের দুঃসহ নিপীড়ন-নির্যাতনে ভিটেমাটি ছেড়ে মান-সম্মান ও প্রাণ বাঁচাতে পরিবার পরিজন নিয়ে নির্বাসিত জীবন যাপনের আতঙ্কে দিন কাটতে হচ্ছে।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, সিএস/আরএস রেকর্ডীয় মালিকগণ অর্থাৎ আমার পূর্ব পুরুষগণ বৈধ দলিলাদীর মাধ্যমে ওই প্রতিপক্ষগণের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন এমন বৈধ ১০% প্রমাণাদী দেখাতে পারলে সমস্ত সম্পত্তি ছাড়ে দিব। এমন বৈধ প্রমাণাদী এখন পর্যন্ত তারা প্রদর্শন করতে পারেননি। এরপরও কেনো এত দুঃসহ নিপীড়ন-নির্যাতন। আমরা হিন্দু সম্প্রদায় বলে কি ন্যায় বিচার পাবো না? তাই ওই
ভূমিদস্যুদের কবল হতে সম্পত্তি ও পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এলাকার সুশীল সমাজের দাবী, এসব ঘটনায় দ্রুত ন্যায়বিচারের উদাহরণ সৃষ্টি করা না হলে মানুষ ক্রমেই বিচার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারাবে। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনকে এ সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সু্ষ্ঠু তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন।
প্রতিপক্ষ মতিয়ার রহমান শামীম জানান, আমরা কাগজপত্রমূলে সম্পত্তির মালিক। এ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। বিচার আমলে প্রমান হবে। এখানে জোর জবরদস্তি বা হুমকী ধামকির প্রশ্নই আসে না।
কামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান রাশেদ বলেন, আমি নিরুপায়, মিমাংসা করতে পারিনি।