ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে অস্থিরতা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মুহম্মদ জমাদ্দার-এর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

শিক্ষক সমাজ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনাকে ‘একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।সভাপতির একক সিদ্ধান্ত, শিক্ষা আইনের তোয়াক্কা নেই।বিদ্যালয়ের সভাপতি রাশেদুল হক পলাশ সম্প্রতি কোনো ম্যানেজিং কমিটির বৈঠক ছাড়াই প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেন। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে সভাপতি এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। প্রয়োজন হয় কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন।

এ বিষয়ে অনেক শিক্ষাবিদ বলছেন, এটি শিক্ষা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী।প্রধান শিক্ষকের বিস্ফোরক অভিযোগ,নথি সরিয়ে নিয়ে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে,শনিবার (১৯ অক্টোবর) বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক নূর মুহম্মদ জমাদ্দার বলেন,বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের খাতা, রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কেরানির কাছ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন সভাপতি নিজেই। আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এখন সেই নথির ভিত্তিতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।তিনি দাবি করেন, এটি ব্যক্তিগত শত্রুতা ও প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা। একজন সৎ ও নীতি-নিষ্ঠ প্রধান শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই প্রক্রিয়া চলছে।শিক্ষক, ছাত্র ও এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া জমাদ্দার স্যার আমাদের অনুপ্রেরণা,বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক বলেন,জমাদ্দার স্যার নিয়মতান্ত্রিক, দায়িত্বশীল এবং আমাদের অনুপ্রেরণা।

তাঁর বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা প্রচারণা অত্যন্ত দুঃখজনক।শুধু সহকর্মীরাই নন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন,এটি একজন সৎ শিক্ষকের বিরুদ্ধে চরম অন্যায়। তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাওয়া মানে পুরো বিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থাকে আঘাত করা।অভিভাবকদের পাশে থাকার ঘোষণা,অভিভাবকদের ভাষায় আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সৎ ও আদর্শবান শিক্ষকের পাশে আছি। জমাদ্দার স্যারের বিরুদ্ধে যদি অন্যায় হয়রানি করা হয়, আমরা কঠোর প্রতিবাদ জানাবো।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি

স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষক সমাজ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন। তারা বলছেন,এটি শুধু একজন শিক্ষকের নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। সত্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করা হবে।একজন আদর্শ প্রধান শিক্ষক যদি রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত বিরোধ বা ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার হন, তবে প্রশ্ন ওঠে কতটা নিরাপদ আজকের শিক্ষাঙ্গন,এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বাঞ্ছারামপুরের মানুষ।

তারা চায় সত্য যেন চাপা না পড়ে, সৎ যেন অপমানিত না হয়, এবং শিক্ষার পবিত্র মঞ্চ যেন রাজনীতির নাট্যশালায় পরিণত না হয়। আপনার মতামত দিন আপনি কী মনে করেন, প্রধান শিক্ষক নূর মুহম্মদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করুন নিচে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}