ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন সরকারি ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি শহরে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের মালিক। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও বিদেশে অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বিগত আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নিজ বোন রোকসানা বেগমকে সহকারী হিসাবরক্ষক পদে থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্টোর এর দায়িত্বে রেখেছেন।

এছাড়া ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অস্ত্রসহ কেন্দ্র দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এর আগেও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ও ৩ কোটি টাকার দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হাসপাতালের এমএসআর ও পণ্য সরবরাহ সংক্রান্ত দরপত্রে বি.এস.এফ এন্টারপ্রাইজ ও অন্বেষা এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন প্রতিনিধি — মো. সিয়াম চৌধুরী, সাইকুল ইসলাম ও মীর আব্দুল ওয়াছিদ — গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে জেলা তত্ত্বাবধায়ক বরাবরও একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগকারী মো. নাইমুল হক স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রটি স্বাস্থ্য পরিচালক চট্টগ্রাম বিভাগ ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবরও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেন নি। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়া বলেন, “দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমরা সরব, যে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}