গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের তাণ্ডব। জমির জবর দখল নিতে মারপিটে ৪ ব্যক্তিকে আহত করে গাছপালা কর্তন। থানায় মামলা হওয়ায় উল্টো হুমকী দেয়া হচ্ছে মর্মে ভুক্তভোগী বাদী সাহিদুল ইসলামের অভিযোগ।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন সমস গ্রামের মৃত ইমান উদ্দিন ব্যাপারীর পুত্র সাহিদুল ইসলাম পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত
দক্ষিণ শ্রীপুর মৌজার জেএল নং ১০৪, আরএস খতিয়ান নং ১৬৪৯, দাগ নং ৭২৩ এর ১.৫০ একর জমির মধ্যে ০৮ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা লাগানোসহ চাষাবাদে ভোগ দখল করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এতে বাঁধ সেধে বসেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার মৌজামালী বাড়ী গ্রামের প্রতিপক্ষ খাজা মিয়ার পুত্র ফিরোজ মিয়া, মৃত আলিম উদ্দিনের পুত্র খাজা মিয়া, খাজা মিয়ার স্ত্রী আরেফা বেগম ওরফে খুকি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভেলারায় সোনারপাড়া গ্রামের হাবি মিয়ার পুত্র আল আমিন। তারা উক্ত জমি নিজেদের মর্মে মিথ্যা দাবী করে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি করে আসে।

এমতাবস্থায় গত ১৯/১০/২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় প্রতিপক্ষগণ অপরিচিত ২৫/২৬জন ভাড়াটিয়ে লোকজন নিয়ে হাতে লাঠি, ছোরা, লোহার রডসহ মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে একই উদ্দেশ্য সাধনে তফশীল বর্ণিত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমিতে থাকা রোপনকৃত আনুমানিক ২৫০-২৬০ টি ইউক্লিপটাস ও মেহগনি গাছ উপড়িয়ে ভাংচুর করে আনুমানিক ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ক্ষতি সাধন করে। এ সময় সাহিদুল ইসলামসহ ভাতিজা আপেল মিয়া (২২), আহসান হাবিব (১৪) এবং ভাই জাহিদুল ইসলাম (৫০) বাঁধা দিলে দলবদ্ধ প্রতিপক্ষগণ ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ছোরা, লোহার রডসহ লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত যখম করে গুরুতর আহত করে। এ সময় আহতদের আত্মচিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষগণ খুন-জখমের হুমকি দিয়ে কর্তনকৃত গাছগুলো নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এরপর গুরুতর আহত আপেল মিয়া, আহসান হাবিব ও জাহিদুল ইসলামকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সাহিদুল ইসলাম নিজে বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ ফিরোজ মিয়াসহ ৪ জন আরও ২৫/২৬জনকে অজ্ঞাত আসামী করে গত ২৪-১০-২৫ ইং তারিখে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা
(নং ২০/২৫) দায়ের করেন।

মামলার ভুক্তভোগী বাদী সাহিদুল ইসলামের দাবী, মামলা হলেও এখন পর্যন্ত আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সুযোগ পেলে তাকেসহ তার ভাতিজা লোকমান হাকিম লিচুকে খুন, জখমসহ মিথ্যা মামলায় হয়রানি করবে মর্মে বিভিন্নভাবে হুমকী ধামকি দিচ্ছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও আসামীদের পক্ষে জনৈক ভুঁইফোড় টাউটবাজ দেওয়ানী থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লবিং করে ঘটনার মোড় ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়ায় ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হলে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাকিম আজাদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}