গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ধর্ষন ঘটনার নাটক সাজিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে মর্মে অভিযোগ শিক্ষক আবু তালেব মিয়া হিরুর। আবু তালেব মিয়া হিরু উপজেলার পাতিল্যাকুড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ সরকারের পুত্র। তিনি পেশায় একটি সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং গ্রাম্য ডাক্তার। শিক্ষক আবু তালেব মিয়া হিরুর অভিযোগ, তিনি ১৯৯৮ সালে উপজেলার দক্ষিন শ্রীকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। সেখানে অতি সুনামের সাথে চাকুরি করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বদলী হয়ে বাড়ি সংলগ্ন পাতিল্যাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে গ্রাম্য ডাক্তার হিসেবে এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। স্কুলের সময় ব্যতিত সকালে বিকালে পার্শবর্তী বাজারে নিজ ঔষধ ফার্মেসিতে বসে ঔষধ বিক্রিসহ এ চিকিৎসা সেবা দেন। এ সুবাদে ৩৮ বছর বয়সী ৪ সন্তানের জননী এক গৃহবধু বিভিন্ন সময়ে নিজের ও সন্তানদের চিকিৎসাসহ এ ঔষধ ফার্মেসি থেকে কখনো নগদ কখনো বা বাকীতে ঔষধ নেন। এমতাবস্থায় তার কাছে ঔষধের প্রায় ১২ হাজার টাকা বাকী পড়ে যায়। টাকার জন্য তাগদা করায় ওই গ্রহবধূ মিথ্যা ধর্ষনের নাটক সাজিয়ে এলাকায় অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। যা মানহানিকর ও নেক্কারজনক।

স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বলাবলি করছেন, শিক্ষক আবু তালেব মিয়া হিরু এলাকার একজন নৈতিক শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি পাশাপাশি একজন গ্রাম্য ডাক্তার। তার পেশাগত সততা, ন্যায়পরায়ণতা, রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও শ্রদ্ধার এক সমষ্টি। তিনি সবার সাথে বৈষম্যহীন আচরণ করেন, নিজের কাজ ও আচরণে নৈতিকতা বজায় রাখেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি গ্রাম্য ডাক্তার হিসেবে এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। আবু তালেব মিয়া হিরু যদি ওই গৃহবধূকে কু-প্রস্তাব দিয়ে থাকেন তবে ওই গৃহবধুর প্রথমেই উচিৎ ছিল স্বামী, সন্তান, সংসারের প্রতি বিবেচনা করে বিষয়টি স্বামীসহ বাড়ীর আশেপাশের লোকজনকে জানানো। সেটি না করে কি করেই বা আত্ম সম্মানবোধ বিসর্জন দিয়ে বিয়ের প্রস্তাবে রাজী হয়ে প্রেম/ভালবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন? যদি তাই হয়, তবে এমন আবেগ অনুভূতিতে ধর্ষনের ঘটনা ঘটলে কখনো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক হতে পারেনা।

ওই গৃহবধুর স্বামীর বাড়ী ও আবু তালেব মিয়া হিরুর বাড়ী একই গ্রামে নয়। আবু তালেব মিয়া হিরুর বাড়ী উপজেলার পাতিল্যাকুড়া চকদারিয়া গ্রামে। এ গ্রাম থেকে ওই গৃহবধুর স্বামীর বাড়ি প্রায় ২ কিলোমিটার দুরে একটি জনঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ওই গৃহবধুর স্বামী একজন কাঠ মিস্ত্রী। সংসারে ২ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলের বিয়ে হয়েছে। সবাই একই পরিবারের অন্নভুক্ত। এমন অবস্থা দৃষ্টে আবু তালেব মিয়া হিরু দিনের বেলা বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে বাড়ীতে গিয়ে ওই গৃহবধুকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটানো বোধগম্য নয়। যেখানে বার বার বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয় সেখানে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে আবু তালেব মিয়া হিরুর সাথে ওই গৃহবধুর সম্পর্ক অটুট থাকেই বা কি করে।

আবার স্বামীর বাড়ী থেকে পিতার বাড়ীতে অবস্থানের পর গত ১৭/১০/২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টায় আবু তালেব মিয়া হিরু যদি ওই গৃহবধুকে আবারও জোর পূর্বক ধর্ষন করে থাকেন এ সময় ওই গৃহবধু পারতেন চিৎকার দিয়ে লোকজন ডেকে তাকে আটক দিয়ে আইনে সোপর্দ করতে। যেহেতু চিৎকার দেননি সেহেতু ঘটনার সাক্ষী একই পরিবারের ভাবী ছাদেনা বেগম, মা ছোমেলা বেওয়াসহ বাড়ি থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দুরের প্রতিবেশী চাচা প্রাক্তন ইউপি সদস্য সাজু মিয়া জানলেন কি করে বিষয়টি রহস্যজনক ও হাস্যকর। প্রশ্ন উঠেছে, আইন অনুযায়ী ধর্ষনের আলামত সংগ্রহে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষিতাকে মেডিক্যাল পরীক্ষা করে আইনের আশ্রয় নেয়ার নিয়ম। তা না করে ঘটনা ঘটনার ১৮/১৯ দিন পর অপপ্রচারের নেপথ্য রহস্যই বাকি? সচেতন মহলের মন্তব্য, পুলিশ প্রশাসন তৎপর হলে সঠিক তদন্তে বেড়িয়ে আসবে ঘটনার আসল রহস্য। সেই সাথে ঘটবে সৃষ্ট ঘটনার সু্ষ্ঠু সমাধান।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}