বাবাকে হারানোর পর ভোলা সদর উপজেলার মেয়ে হুমাইরার জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শুধু পড়াশোনাই না পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে জীবন যাপন করাই হয়ে উঠে দুষ্কর প্রায়, তার মাঝেই চাপ আসে ভর্তির। ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ভোলা সরকারি কলেজের অনার্স ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পেলেও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ভর্তি হতে পারেননি। এতে তার স্বপ্ন থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরবর্তীতে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ এলেও সেই একই আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তাকে আবারো বিপদে ফেলে।
ঠিক সেই সময় বিষয়টি জানতে পারেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক আরাফাত ইসলাম ইফতি।
খবর জানার পর তিনি সদস্য সচিব আবদুস সামাদসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। ভর্তির শেষ দিনে হুমাইরার ভর্তি সম্পন্ন করা হয়। শুধু ভর্তি নয়—তার নিয়মিত পড়াশোনা নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তারা।
শিক্ষার্থী হুমাইরা জানান, “বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক কিছুই ভেঙে পড়েছিল। অনার্সে ভর্তি হতে না পারার ভয়টা আমাকে আরও অসহায় করে তুলেছিল। শেষ দিনের এই ডিগ্রীর ভর্তি সুযোগটাও যদি হাতছাড়া হয়ে যেত, তাহলে আমাকে আবার পুরো একটা বছর অপেক্ষা করতে হতো। সত্যি বলতে, হয়তো আর পড়াশোনাটাই হতো কিনা জানা নেই। কিন্তু ছাত্রদল ভাইয়েরা আমার হাতে আবার আশা তুলে দিয়েছে। আজ আমি ভর্তি হতে পেরেছি—এটাই আমার কাছে নতুন জীবনের শুরু। তাদের এই সাহায্য আমি কোনোদিন ভুলব না।”
সদস্য সচিব আবদুস সামাদ জানান, “এটা মানবিক দায়িত্ব। হুমাইরা যেন স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য যা প্রয়োজন আমরা করব। আমাদের প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর কাছে প্রত্যয় সুন্দর একটি ক্যাম্পাস তাদের উপহার দিবো ”
আহবায়ক আরাফাত ইসলাম ইফতি বলেন, “টাকার অভাবে একজন মেয়ের শিক্ষাজীবন থেমে যেতে দেওয়া যায় না। হুমাইরার বাবা আজ নেই তবে আমরা তার ভাইয়েরা আছি। আমরা হুমাইরার পাশে আছি, তাকে পুরো পথটায় সহযোগিতা করব। আজ তার ভর্তি হয়েছে, কাল তাকে চাকরি দিতে পারলে সেটাও করব। একজন শিক্ষার্থী যখন বিপদে পড়ে, তখনই সংগঠনের মানবিকতার আসল পরীক্ষা। ছাত্ররাজনীতি নামের জায়গাটাকে আবার শিক্ষার্থীদের ভরসা বানাতে চাই—এই উদ্যোগ সেই পথের শুরু। ”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ ফজলে রাব্বি, মোঃ সিফাতুল্লাহ সিফাত, মোঃ রাজু ও সাফায়েত হোসেন শাফিসহ আরো নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় মহলে এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ছাত্রদলের এমন মানবিক সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।