বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য শহীদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবনস্থ কাদের নগরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভিপি আনছুর উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান মেহমান ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমীর ফটিকছড়ি জামিয়া ইসলামিয়া বাবু নগর মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিবুুল্লাহ বাবুনগরী।

সভায় বক্তব্য রাখেন শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে ফয়জুল কাদের চৌধুরী ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

হুমাম কাদের চৌধুরী বক্তব্যের শুরুতেই নারায়ে তকবির আল্লাহ আকবর স্লোগান দিয়ে বলেন, আপনারা জানেন আমি বক্তব্য রাখার শেষে তাকবীর দিই। আজকে মন শান্ত করার জন্য শুরুতে দিলাম। মঞ্চে বসে বড় ভাইয়ের কথা শুনে অনেকক্ষণ কেঁদেছি।  কারণ আব্বা হারানোর পরে এই পরিবারের আপনারা যারা আছেন একজন আরেকজনকে ধরে টুক টুক করে এগিয়ে এসেছি এই মঞ্চ পর্যন্ত। আপনাদের দোয়া যদি না থাকতো, হয়তো আটকে বছর আয়না ঘরে পড়ে থাকতাম আমি।

তিনি বলেন, আজকে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার সময় নয়, আমার ভাই আপনাদেরকে বলেছে, বাবার সাথে শেষ মুহুর্তেগুলো কি রকম ছিল আমাদের। বাবা একটা জিনি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাইরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, তাদের জন্য কোন বার্তা আছে কি না। বাবা অনেকক্ষণ নিরব থেকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, যে চিটাগাংএ গিয়ে চিটাগাঙ্গের মানুষকে বলবা, ‘যে সম্মান যে ভালবাসা তারা আমাকে ৪০ বছর দিয়েছে, যদি সম্ভব হতো আমার কলিজাটা তাদের দিয়ে দিতাম। এখান থেকে কিছু গজ দুরেই আব্বার কবর হওয়ার কথা ছিল। আমরা চেয়েছিলাম আব্বাকে এখানে কবর দেয়ার জন্য নিয়ে আসতে।

তিনি আরও বলেন, আজ এখানে আমার আম্মা আছেন, উনি সেই সময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, যে ‘আমার স্বামী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছে, ‘সে যদি পারতো তাঁর কলিজাটা চট্টগ্রামের মানুষকে দিয়ে দিতো।’ আজকে আমি বলতে চাই, আমার স্বামী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আসলেই তাঁর কলিজার একটা টুকরো আপনাদেরকে দিয়ে গেছে তা হলো হুমাম কাদের চৌধুরী।

তিনি আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে দাদা সম্বোধন করে বলেন, আজ হেফাজতের প্রধান আপনাদের সামনে বলে দিলেন, যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এখন জান্নাতবাসী’।’

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ‘ভাইজান’ ডাকার উক্তিটি মনে করিয়ে তিনি আরও বলেন আজকে আমি ষখন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি, এবং উঠান বৈঠকে গিয়ে সালাম দিয়ে বলি প্রিয় ভাইয়েরা, তখন ভাই আমি খুঁজে পাইনা, সব দেখি আমার চাচার বসে আছে। বয়স যেটাই হোকনা কেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সকলের ‘ভাইজান’ ছিলেন। এখন যা দেখছি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলের জন্য সবাই এক নাম দিল ‘ভাইপুত’। যেখানেই যাই শুনি ‘ভাইপুত আইস্সি’।

কিছু চাইতে আসিনি, খালি দিতে এসেছি, প্রতিশ্রুতিকে নাটক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমি চাইতে এসেছি।রাঙ্গুনিয়ার মানুষ ফেব্রুয়ারী মাসে প্রমাণ করে দিবে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন, এটা ভোটের মাধ্যমে আমরা নির্ধারণ করবো। তাই আজকে আমারা ভোট চাচ্ছি বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান সাহেবের জন্য এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্য।

লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ওয়াদা করে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আজকে আপনাদের থেকে আমি ওয়াদা দিতে চাই, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বাবাকে আমরা নির্দোষ প্রমাণ না করতে পারি,ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলতে থাকবে।’

সর্বশেষে তিনি আমি যখন বাবার সাথে দেখে করতে কারাগারে যেতাম, তখন বাবা রাঙ্গুনিয়ার একজন একজন করে ব্যাক্তির নাম ধরে জিজ্ঞেস করতে তাদের কি অবস্থা?  আমি বলতাম, কারাগারে বসে এখনো রাঙ্গুনিয়া নিয়ে চিন্তা করো। উত্তরে বাবা বলতেন, আমি আজকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী হতে পেরেছি, এই রাঙ্গুনিয়াবাসীর কারণে, এদের ভালবাসার কারণে আজকে আমি নেতা হয়েছি।

সভার শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন।

হাফেজ মাওলানা এনামুল হক।

সভায় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

এর আগে স্বপরিবার নিয়ে রাউজানের গহিরস্থ শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১০ বছর পর নিজ বাসভবনে প্রথম বার মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভীড়ে লোকে লোকারণ্য পরিণত হয় রাঙ্গুনিয়ার কাদের নগরস্থ সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর বাসভবন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}