তিন দফা দাবি আদায়ের জন্য বরগুনার বেতাগীতেও ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষকদের বাঁধায় উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও হ-য-ব-র-লয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টায় বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ পরীক্ষা বর্জণ ও উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালা ঝুলিয়ে শার্ট ডাউন কর্মসূচির ঘোষনা দিয়ে সহকারি শিক্ষকদের এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক রাসেল সাবরিন, সাধারণ সম্পাদক সহকরী শিক্ষক মোস্তারি আক্তারীএ্যানী, প্রধান শিক্ষক জেসমীন আক্তার, মো: জসীম উদ্দীন, সহকারী শিক্ষক নিশাত নজরুল, শাহীন হাওলাদার ও জিয়াউল কবীর সহ বিভিন্ন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে বুধবার পরীক্ষার তৃতীয় দিনে সকালে বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এলে কর্মবিরতির কারণে সহকারী শিক্ষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাঁধা প্রদান করে। এসময় অভিভাবক ও প্রধান শিক্ষকের সাথে শিক্ষকদের উত্তপ্তের এক পর্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা এসে অভিভাবক ও শিক্ষকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশের উপস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
জানা গেছে, সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি এবং বুধবার পরীক্ষার তৃতীয় দিনেও বর্জন কর্মসূচি চলে। বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহানাজ ডলি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি।
সরজমিনে দেখা গেছে, পরীক্ষার তৃতীয়দিনে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির ফলে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দাবি পরীক্ষার তৃতীয়দিনে উপজেলার ১২৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টি স্কুলে কোন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থী অভিভাবক নাজমুল আহসান বলেন, শিশুদের পূঁজি করে শিক্ষকদের বার্ষিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষা বর্জণে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে তার দায়ভার কে নেবে?
বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জেসমীন আক্তার বলেন, সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনে সমস্যা হলেও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আনুযায়ী পরীক্ষা নিচ্ছি।
বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: ওয়াহিদুর রহমান বলেন,‘দাবি দাওয়া পূরণের জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করতেই পারেন। কিন্ত আন্দোলনের নামে শিশুদের ভবিষৎত ক্ষতি সাধনের অধিকার আমাদের নেই। কেউ অতিরিক্ত করলে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিদের্শনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ক্যাপাশন: বেতাগীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন কালে শিক্ষক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখছেন। বরগুনার বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার দুপুরে তোলা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}