আজ ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বেলা ১১ টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের আয়োজনে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মুক্তি যোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের আহব্বায়ক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুর সভাপতিত্বে ও ময়নুল ইসলাম রাজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) যাদব সরকার, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম সাজা, সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, সাবেক কমান্ডার মজিবুল হক ছানাসহ জেলার ৭ উপজেলার ২ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাগন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং পরে জাতীয় সংঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাস লড়াইয়ের পর এই দিনে গাইবান্ধাকে মুক্ত করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। ফলে বিজয়ের আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধারা ও মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ।
১৯৭১ এর এই দিনে কোম্পানি কমান্ডার বীর প্রতীক মাহবুব এলাহী রঞ্জুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কালাসোনার চর থেকে বালাসী ঘাট হয়ে গাইবান্ধা শহরে প্রবেশ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের সংবাদ পেয়ে রাতেই গাইবান্ধা শহরের স্টেডিয়ামে অবস্থিত পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশে পালিয়ে যায়।
ফলে মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমান স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ (তৎকালীন এসডিও) মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার মিলন মেলায় পরিণত হয়। এ সময় গাইবান্ধাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে উত্তোলন করা হয় লাল সবুজের পতাকা। সেখানে ১০ সহস্রাধিক মানুষ সংবর্ধনা দেন বিজয়ী বীর সেনাদের।