ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস অগ্নিঝরা ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম তীর্থভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শত্রুমুক্ত হয়। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের কাছ থেকে জানা যায়, ‘ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বাঞ্চল আখাউড়া শত্রুমুক্ত হয়। এরপর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে অগ্রসর হয়। আখাউড়া থেকে রেললাইন ও উজানীসার সড়ক দিয়ে অগ্রসরমান যৌথবাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পৌঁছে যায়। কোনও ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত হয়। উত্তাল দিনের ৮ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করতে দেখে সর্বস্তরের মানুষ জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান।
এ সময় সাধারণ মানুষের মাঝে একদিকে বিজয়ের আনন্দ, অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনা। সবকিছু পেছনে ফেলে সেইদিন বিজয়ের আনন্দে মেতেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ। সেইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুরাতন কাঁচারী প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জহুর আহমেদ চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অসামান্য ভূমিকার কথা তুলে ধরে এখনও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ৭১-এর রনাঙ্গণের বেঁচে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এখনও জেলার বিভিন্ন স্থানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অসংখ্য স্মৃতিসৌধ ও গণকবর। আজ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ্ মো. আব্দুর রউফ। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে, বীর মুক্তিযোদ্ধারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক মো. বাহার চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবসের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। নতুন প্রজন্ম এ দেশ ও স্বাধীনতা তারা রক্ষা করবে।’ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। কিছু কুচক্রী মহল সময়ে সময়ে আমাদের এই স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। আমরা যার যার অবস্থান থেকে সুদৃঢ়ভাবে স্বাধীনতাকে রক্ষা করবো।’
Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}