কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মরণ সংকটে পড়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গালিমপুর গ্রামের শ্রমজীবী সাহেব আলী (৩০)। গত ছয় মাসে চিকিৎসা খরচ জোগাতে সঞ্চয় ও সহায়তার সবটুকু শেষ হয়ে গেছে। এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চাইছেন সাহেব আলী-শাহনাজ দম্পতি। সমাজের আর দশজনের সামান্য সহায়তায় ফিরে পেতে পারেন জীবন। তবে এসবের কোনো কিছু না বুঝলেও তাঁদের শিশু দুটিও ঘুরছে মা-বাবার সঙ্গে।

পরিবার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় সাহেব আলীর বয়স ৩০ বছর হলেও রোগে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধ মানুষের ছাপ পড়েছে তাঁর চোখেমুখে। আট বছর আগে তিনি বিয়ে করেন শাহনাজকে। সংসারজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। মেয়ের বয়স ৫ ও ছেলের বয়স ৩। দিনমজুরির আয়ে কোনোমতে তাঁদের সংসার চলত। কিন্তু গত ছয় মাসের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে টুকটাক যা সঞ্চয় ছিল, সব ফুরিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর চিকিৎসা। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ।

শিশু দুটির বয়স কম, তাই বুঝতে পারে না বাবার অসুস্থতার কথা। শুধু দেখে, বাবা আগে যেমন হাসিঠাট্টা করতেন, এখন তেমন করেন না। আগে যেমন খাবার বা নতুন জামাকাপড় নিয়ে আসতেন, তা-ও বন্ধ হয়ে গেছে অনেক দিন ধরে। তাই তাদের মন খারাপ থাকে।

সাহেব আলী বলেন, ‘ছয় মাস আগে আমার কিডনি রোগ ধরা পড়ে। যশোর, ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতাল ও পিজিতে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করতে হয়, খরচ পড়ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। চিকিৎসা আর সংসারের ব্যয় মিলিয়ে আর পারছি না। আপনাদের একটু সহায়তা পেলে আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারি।’

তাঁর বাবা ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের আবাদযোগ্য জমি নেই। যা কিছু সঞ্চয় ছিল, সবটা ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে। এখন মানুষের সহায়তা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ বলেন, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য সমাজসেবা অফিস থেকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। ভুক্তভোগী আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে তা দেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}