পতিত আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত থেকে জোর করে বাড়ি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদ ও পরিবারের সদস্য ও ভাইবোনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন নিরীহ কৃষক শওকত আলী সুমন। তিনি জানান তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম আওয়ামীলীগের সক্রিয় কর্মী। তার ইন্ধনেই আওয়ামীলীগের কর্মী ওয়ালিউর রহমান ও ছেলে সোহেল রানা সুইট জীবননাশসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের দারিয়াপুর কলেজপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলী বেপারির ছেলে শওকত আলী সুমন নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শওকত আলীর স্ত্রী মুক্তি বেগম, ছেলে তানজিদ তিতাস, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রেশমী বেগম, ছোট বোন মোর্শেদা বেগম, ভাবী সালমা বেগম, ভাতিজা আলামিন ইসলাম রাব্বী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে শওকত আলী সুমন লিখিত বক্তব্যে জানান, তার পিতা হোসেন আলী ব্যাপারী ২০০০ সালে ওয়ালিউর রহমানের কাছে ৪০ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু ওয়ালিউর রহমান ও তার ছেলে সোহেল রানা সুইট জোর করে অতিরিক্ত ১০ শতকসহ ৫০ শতক জমি ভোগ দখল করছে। অতিরিক্ত ১০ শতক জমি জবর দখল করার কারণে একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও তারা তা মেনে নেয়নি। এদিকে পিতা হোসেন আলী বেপারি মৃত্যুর পর অন্যান্য ভাই-বোনকে বঞ্চিত করে বেশি সম্পত্তি লাভের আশায় সম্প্রতি তাদের সাথে জড়িত হয়েছে শওকত আলী সুমনের আপন বড় ভাই সাইফুল ইসলাম। এসব নিয়ে ওয়ালিউর রহমানের সাথে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হয়। এরই জের হিসেবে গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে সাইফুল ইসলাম ও সোহেল রানা সুইটের নেতৃত্বে তাদের লাঠিয়াল বাহিনী এসে শওকত আলী সুমনের বাড়িতে এলোপাথারি ভাংচুর করে। এতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ধারালোর বেকির আঘাতে শওকত আলীর হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে দিলে ৪টি সেলাই দেয়া হয়। এ নিয়ে থানায় মামলা হয়। মামলার আসামিরা গত ২৮ নভেম্বর জামিন নিয়ে বাড়িতে এসে শওকত আলীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে তার পায়ের দুটি আঙ্গুল ভেঙ্গে দেয়। তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এব্যাপারে থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় ওয়ালিউর রহমানের ভাই লিটু আনাম ও ছেলে আব্দুস সামাদ এখনও জেলহাজতে রয়েছে। ওই মামলার আসামি শওকত আলী সুমনের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। কিন্তু মামলার আসামিরা ও পলাতক সাইফুল ইসলামের হুমকিতে শওকত আলী ও তার পরিবার এবং ভাই-বোনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জীবনের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও জমির বিষয়টি সুরাহার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।