কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি নদীর চর কেটে কোটি টাকার মাটি লুটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দিনের আলো ও গভীর রাত—দুই সময়েই অবৈধ ভেকু, ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করে নদীর চর ও ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ মাটি খেকু চক্র। এতে একদিকে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) মুরাদনগর উপজেলার ১৬ নং ধামঘর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ভুবনঘর পূর্ব পাড়া এলাকায়—স্থানীয়ভাবে “হেলিপোর্ট” নামে পরিচিত সরকারি জায়গা ও নদীর চর থেকে মাটি কাটার সময় প্রশাসনের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় মাটি খেকুররা। তবে অভিযানের আগ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই চলছিল ব্যাপক মাটি কাটা ও পাচার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী একটি চক্র। নদীর চর ও ফসলি জমির মাটি কাটা যে ফৌজদারি অপরাধ—তা জেনেও তারা বেপরোয়া। বাধা দিতে গেলে হুমকি দেওয়া হয়। রাতভর ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের শব্দে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, শ্রমজীবী মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। মাটি কাটার ভয়ে অনেক কৃষক সবজি ক্ষেতের ফসল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন—লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ মাটি কাটা সিন্ডিকেট দলের সদস্যরা হলেন—কালাম মিয়া (পিতা: মৃত মনু মিয়া), জাকির (পিতা: মৃত নয়ন মিয়া), মোস্তফা (পিতা: মৃত সিদ্দিক হোসেন) ও জাহাঙ্গীর আলম (এলাকায় পরিচিত “মাটি জাহাঙ্গীর” নামে)। তারা সবাই ভুবনগড় গ্রামের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ মাটি কাটার ফলে আশপাশের নদীপাড়ে ধস নেমেছে এবং শতাধিক বাড়িঘর সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ভয় ও হুমকির কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রহমান বলেন, ফসলি জমি কিংবা সরকারি জায়গা থেকে মাটি কেটে নেওয়া ফৌজদারি অপরাধ। মাটি কাটার বিরুদ্ধে আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত ও জোরালো অভিযান চালিয়ে অবিলম্বে মাটি খেকু চক্রকে আইনের আওতায় না আনলে বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধ ভেঙে বড় ধরনের মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}