গুলিতে ঝরে যাওয়া প্রাণ থামাতে পারেনি প্রতিবাদের আগুন। শুক্রবার (১৯ডিসেম্বর) বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি,ইসলামি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও গণ-অধিকার পরিষদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এক কণ্ঠে সোচ্চার হন তাঁরা।
তাড়াইল উপজেলার প্রধান সড়ক থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলজুড়ে ছিল ক্ষোভে ফেটে পড়া স্লোগান,হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেবনা,আমরা সবাই হাদি হব-হাদি হত্যার বদলা নেব।
পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন,শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদী কন্ঠ। তাঁকে গুলি করে হত্যা করা মানে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ন্যায়বিচারের কণ্ঠ রোধ করার ঘৃণ্য চেষ্টা। এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
নেতারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ঘটনার পর পর্যাপ্ত সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে এই প্রতিবাদ সারাদেশে দাবানলের মতে ছড়িয়ে পারবে।এমন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তোলেন,আজ হাদি,কাল কে?
এই প্রশ্নের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না বলে ঘোষণা দেন তাঁরা।
বিক্ষোভকে ঘিরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিলো চোখে পরার মতো।