ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) নবীনগর উপজেলা শাখার নামে গোপন ও অবৈধ কমিটি গঠনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সুবীর রঞ্জণ সাহা, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, গোপাল কৃষ্ণ রায় ও ইসহাক গোপনে এবং গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে একটি পকেট কমিটি গঠন করেছেন, যা সাধারণ কেমিস্টরা মানেন না ও মানবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২০ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি গোপন স্থানে তথাকথিত নির্বাচন আয়োজন করে নবীনগর উপজেলা শাখার নামে অবৈধ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ত্রুটিপূর্ণ ও ভুয়া ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হয় এবং প্রকৃত অনেক কেমিস্টের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়।লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয়, বিসিডিএস-এর গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে নবীনগরের নির্বাচন নবীনগরের বাইরে আয়োজন করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাধারণ সদস্যদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বরে পাঠানো এক চিঠিতে গত ২০ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়। কিন্তু ঐদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সংশ্লিষ্ট কেউ সেখানে উপস্থিত হননি। তাছাড়া নির্ধারিত সময়ে কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, সন্ধ্যার পর একটি গোপন স্থানে অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ওই অবৈধ ও প্রহসনের নির্বাচন বাতিল, নির্ভুল ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নবীনগরেই নির্বাচন আয়োজন, সাধারণ সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সংগৃহীত ফান্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবিও তোলা হয়।
দাবি মানা না হলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। সংবাদ সম্মেলনে কেমিস্টদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোঃ মজিবুর রহমান, মোঃ আমান উল্লাহ ও ইকবাল হোসেন।