কিছু মানুষ কেবল রাজনীতির অংশ নন—তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি জাতির অনুভূতি, একটি সময়ের সাহস, একটি প্রজন্মের আশা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঠিক তেমনই এক নাম—যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তা, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, আর আপোষহীন সংগ্রামের ইতিহাস।
আজীবন তিনি লড়াই করেছেন ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। এই লড়াই ছিল কেবল ক্ষমতার নয়—এ ছিল আত্মমর্যাদার, ন্যায়বিচারের এবং জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই। নির্যাতন, অবরোধ, কারাবাস, অসুস্থতা—কোনো কিছুই তাঁকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি।
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তিনি কারো সামনে কখনো মাথা নত করেননি। এই দৃঢ়তা, এই আপোষহীনতা তাঁকে আলাদা করেছে হাজারো রাজনীতিকের ভিড় থেকে। তাই তো জনগণের হৃদয়ে তিনি শুধু একজন নেত্রী নন—তিনি ভালোবাসার প্রতীক, সাহসের প্রতিচ্ছবি।
ভালোবাসার কখনো মৃত্যু হয় না। ভালোবাসার কখনো বিচ্ছেদও হয় না। শারীরিক উপস্থিতি একদিন না থাকলেও আদর্শ থেকে যায়, স্মৃতি থেকে যায়, ভালোবাসা থেকে যায়—প্রজন্মের পর প্রজন্ম। অনেক কথাই বলা হয়নি, অনেক দেখা আর হয়ে ওঠেনি—এই না-পাওয়ার বেদনা নিয়েই মানুষ তাঁকে আরও গভীরভাবে ভালোবাসে।
আমরা বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহই অন্তরের গভীরে লুকানো সব খবর রাখেন। মানুষের অবিচার, ইতিহাসের নিষ্ঠুরতা—সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাঁর ন্যায়বিচার। সেই মহান রবের দরবারেই আমাদের চোখের জল আর প্রার্থনা
“হে আল্লাহ্, আপনি তাঁকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন। তাঁকে শান্তিতে রাখুন। তাঁর থাকার স্থানটিকে মর্যাদাশীল করুন। তাঁর কবর প্রশস্ত করে দিন। বরফ ও তুষারের শুভ্রতা দিয়ে তাঁকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করে দিন—যেমন ময়লা থেকে সাদা কাপড় পরিষ্কার হয়। তাঁকে দুনিয়ার বাসস্থানের চেয়ে উত্তম বাসস্থান, পরিবার ও সঙ্গী দান করুন। হে মাবুদ, তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন। তাঁকে কবর ও দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন।”
(মুসলিম, হাদিস: ২/৬৩৪)
ভালোবাসা কখনো হারায় না। আদর্শ কখনো মরে না।
দেশের ইতিহাসে, মানুষের হৃদয়ে—
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিরকাল অমলিন থাকবেন। _ নাজিম রুবেল, পর্তুগাল প্রবাসী লেখক ও মানবাধিকার কর্মী।